মিয়ানমারে আরেকটি রক্তাক্ত দিন গুলিতে ১৭ গণতন্ত্রপন্থি নিহত

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২১, ০০:৩৬

আরেকটি রক্তাক্ত দিন দেখা গেল মিয়ানমারে। গতকাল রবিবার বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আরো ১৭ গণতন্ত্রপন্থির প্রাণ গেছে। এক শহরেই নিহত হয়েছে ১৪ জন। এদিকে দেশটিতে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের পর লুকিয়ে থাকা এমপিরা ঘোষণা দিয়েছেন, সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম চলবে। খবর বিবিসিও রয়টার্সের

গতকাল দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক শহর ইয়াংগুনে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। ইয়াংগুনের হ্লাইং থারিয়ার এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এ সময় জান্তাবিরোধীরা লাঠি ও ছুরি হাতে নিজেদের আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। সংঘর্ষ শুরু হলে নিরাপত্তাবাহিনী গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষের পর সামরিক সরকার চীনা কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকা এলাকাটিতে মার্শাল ল জারি করেছে। চিকিত্সাকর্মীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে, নিরাপত্তাবাহিনী রাবার বুলেট ও তাজা গুলি ছোড়ে। এতে অন্তত ১৪ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার নাউ ওয়েবসাইট। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা আরো বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যান্য স্থানে গুলিতে মারা গেছে ৩ জন। সারা দিন গুলির শব্দ শোনা গেছে এবং রাস্তায় সামরিক ট্রাকের টহল ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। গত পহেলা ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর বিক্ষোভে গুলিতে প্রায় একশ’ জন নিহত হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে দুই সহস্রাধিক গণতন্ত্রপন্থিকে।

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার

এনএলডির যারা গ্রেফতার এড়াতে পেরেছেন, তারা পালিয়ে নতুন একটি গ্রুপ তৈরি করেছেন, যার নাম কমিটি ফর রিপ্রেজেনটিং (সিআরপিএইচ)। এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাহন উইন খিয়াং থান। মিয়ানমারের বৈধ সরকার হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি করছে সিআরপিএইচ। ফেসবুক বার্তায় মাহন উইন খিয়াং থান বলেছেন, এটা এমন একটা সময় যখন অন্ধকারের বিরুদ্ধে আমাদের নাগরিকদের লড়াই করার ক্ষমতার পরীক্ষা হচ্ছে। অতীতে আমাদের মধ্যে বিভেদ থাকলেও এখন অবশ্যই আমাদের হাতে হাত ধরে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। সিআরপিএইচকে একটি অবৈধ গ্রুপ বলে মনে করে সামরিক বাহিনী। তারা সতর্ক করে দিয়েছে, এই কমিটিকে যারা সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হবে।