১৯৭১ সালে দৈনিক ইত্তেফাক (১৫ মার্চ)

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২১, ২১:০৫

সাহসী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর দৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরুর পর থেকে ইত্তেফাক হয়ে ওঠে গণমানুষের মুখপত্র।  বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিল পত্রিকাটি। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে আপসহীনভাবে সত্য প্রকাশ করে গেছে ইত্তেফাক। পত্রিকাটির এই ভূমিকা উপমহাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।

স্বাধীনতার মাস অগ্নিঝরা মার্চে দৈনিক ইত্তেফাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার মূল খবরের শিরোনাম করা হয়, ‘অসহযোগ চলিবে’। সর্বসাধারণের প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নতুন নির্দেশ ছিল এটি। অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে ১৩ মার্চ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘জনগণের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম এগিয়ে চলছে। সারাবিশ্বে যারা মুক্তিকামী এবং মুক্তির জন্যই সংগ্রাম করে যাচ্ছে তারা আমাদের দাবিকে তাদের নিজেদের দাবি বলেই গ্রহণ করবে। যারা শক্তির মাধ্যমে শাসন করার চক্রান্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের দুর্গ তৈরি করতে কতখানি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন আমাদের জনগণ তা প্রমাণ করেছে।’

বঙ্গবন্ধুর ভাষ্য, ‘আজ বাংলাদেশের নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে প্রত্যেকেই মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর যোগ্যতা অর্জন করেছে। যারা ভেবেছিল শক্তিমত্তার নগ্ন প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলার জনগণকে দমানো যাবে, বাংলার মানুষ তাদের চূড়ান্তভাবে পর্যুদস্ত করেছে। সরকারি চাকরিজীবী, অফিস ও কারখানার শ্রমিক, কৃষক ও ছাত্রসহ বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ অকুণ্ঠচিত্তে জানিয়ে দিয়েছে, তারা আজ সমর্পণ অপেক্ষা আত্মবলিদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

বিবৃতিতে শেখ মুজিব আরও বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক যে, কোনো কোনো অবিবেচক ব্যক্তি সামরিক আইন নির্দেশ জারি করে বেসামরিক কর্মচারীদের একটি অংশ দমাতে চাচ্ছে। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ আপামর জনগণ সামরিক আইনের কাছে নতি স্বীকার না করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কাজেই যাদের প্রতি সামরিক আইনের সর্বশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের প্রতি আমার অনুরোধ, তারা যেন হুমকির সম্মুখে মাথা নত না করেন। বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ তাদের ও তাদের পরিবারের পেছনে আছে। বাংলাদেশের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে নির্মূল করা যাবে না। আমরা অজেয়। কারণ আমরা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা মুক্তির লক্ষ্যে পদার্পণ না করবো ততক্ষণ আমাদের সংগ্রাম আরও পূর্ণোদ্যমে অব্যাহত থাকবে।’

ইত্তেফাক/জেএইচ