স্মার্ট কার্ড ও ভোটারের তথ্যগত বিভ্রান্তি

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২১, ২১:৩৮

২০১৬ সাল হইতে বাংলাদেশের নাগরিকগণ উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র তথা স্মার্ট কার্ড পাইয়া আসিতেছেন। ইহা পূর্বের তৈরি ল্যামিনেটিং করা কাগজের কার্ডের স্থলে প্রতিস্থাপিত হয়। ইহা অনেক দিক হইতেই উন্নত। স্মার্ট কার্ডের মধ্যে থাকা চিপ বা তথ্যভান্ডারে ১৮ ধরনের তথ্য সন্নিবেশিত করা হয় যাহা মেশিন রিডেবল বা পাঠযোগ্য। ইহাতে তিন স্তরে মোট ২৫টি নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য সংযোজিত হইয়াছে। ইহা ২২ ধরনের সেবা পাইবার ক্ষেত্রে কাজে লাগিতেছে। স্বভাবতই স্মার্ট কার্ড প্রাপ্তি একটি সৌভাগ্যের বিষয়; কিন্তু অভিযোগ রহিয়াছে যে, অনেকে বহুদিন ধরিয়া বহুল প্রত্যাশিত স্মার্ট কার্ড পাইতেছেন না। এই সকল ভুক্তভোগী নাগরিকের সংখ্যা কম নহে। ইত্তেফাকের গতকালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী তাহাদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। অর্থাত্ মোট ভোটারের ১৫ হইতে ২০ শতাংশ এখনো স্মার্ট কার্ড হইতে বঞ্চিত। তাহাদের অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হইতেছে না।

উপর্যুক্ত সমস্যার মূল কারণ হইল বিশেষত যাহারা প্রথম দিকে তথা ২০০৮ সালে ভোটার হইয়াছিলেন, তাহাদের যেই সকল তথ্য চাওয়া হইয়াছিল, তাহা যথাযথভাবে পূরণ করা হয় নাই। বলা হইতেছে, সেই সকল ভোটারের ১৮ ধরনের তথ্য পূর্ণাঙ্গরূপে না থাকায় উন্নত মানের স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট করিতে পারিতেছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্মার্ট কার্ড যেহেতু স্বয়ংক্রিয় মেশিনে প্রিন্ট হয়, তাই এই সকল জরুরি তথ্য না থাকিলে সেইটিকে মেশিন বা সিস্টেম ‘নট ফাউন্ড ডাটা’ প্রদর্শন করে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই সকল তথ্য সংযোজিত না হইতেছে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট দেওয়া সম্ভব হইতেছে না; কিন্তু ইহার জন্য দায়ী কাহারা? মূলত এই সংক্রান্ত প্রকল্পের প্রথমদিকে নানা ভুলভ্রান্তি ছিল। ছবির মান খারাপসহ কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়া ফরম পূরণে অসতর্কভাবে বিভিন্ন ভুল তথ্য লিপিবদ্ধ করেন। তথ্যপ্রদানকারীরাও অনেক ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দেন; কিন্তু সংশোধনের প্রক্রিয়া সহজ না করায় ইহার মাশুল নাগরিকরা এখনো দিয়া যাইতেছেন। এমন অভিযোগও রহিয়াছে যে, সংশোধনের জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করিয়া জমা দেওয়ার পরও অনেকে দিনের পর দিন স্মার্ট কার্ড পাইতেছেন না। তবে আশার কথা হইল, ইহা লইয়া সম্প্রতি একটি সভা হইয়াছে এবং এই সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ লওয়া হইয়াছে। ভোটারদের উচিত—যাহারা পূর্ব হইতেই সংশোধনের জন্য ফরম পূরণ করিয়া দিয়াছেন, তাহাদের নির্বাচন কমিশন অফিসে যোগাযোগ রক্ষা করা। যাহারা এখনো সংশোধনের জন্য তথা সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদানে নতুন করিয়া ফরম পূরণ করেন নাই, তাহারাও এই ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে পারেন। মনে রাখিতে হইবে, স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের সময় ব্যক্তির ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ স্ক্যান লাগে। এই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় অফিসগুলিতে নাগরিকগণ যাহাতে কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হন, সেই দিকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবশ্যই তদারকি ও নজরদারি বাড়াইতে হইবে।

যে ১৮ ধরনের তথ্যে গরমিল হইয়াছে তাহার মধ্যে ওয়ার্ড নম্বর, ইউনিয়ন ও ভোটার এলাকার নাম থাকা, স্ত্রীর ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা হিসাবে স্বামীর স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া ইত্যাদি অন্যতম। এখন এই সকল তথ্য সংশোধন করিয়া ফরম জমা দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট এবং এক মাসের মধ্যে সেই কার্ড তথ্য পূরণকারী পাইয়া যাইবেন বলিয়া নির্বাচন কমিশনের পক্ষ হইতে জানানো হইয়াছে। অতএব, যাহারা এখনো স্মার্ট কার্ড পান নাই, তাহাদের এই কার্ড পাইবার গতি ত্বরান্বিত হইবে বলিয়া আমরা আশা করি।