মিয়ানমারে রক্ত ঝরছেই দুই দিনে গুলিতে নিহত ৫৬

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২১, ২২:৪৪

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে রক্ত ঝরছেই। গত রবিবার এক দিনে ৫০ জন গণতন্ত্রপন্থি জান্তা সরকারের গুলিতে নিহতের পর গতকালও একইভাবে ছয় জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সামরিক আইন জারি করতে শুরু করেছে সরকার। এদিকে বিক্ষোভের মধ্যে অং সান সু চির বিরুদ্ধে করা মামলার শুনানি পিছিয়েছে সরকার। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

মিয়ানমারে ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে অব্যাহত প্রতিরোধ-বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী কঠোর থেকে কঠোরতর হচ্ছে। রবিবার ছিল সেনা অভ্যুত্থানের পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভে এদিন সৈন্যরা গুলি চালালে ৫০ জনের মতো মারা যায়। সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে দেশের বৃহত্তম শহর ইয়াংগুনে। সেখানে ৩৭ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সেনাবাহিনী দেশ জুড়ে আরো নতুন নতুন এলাকায় কঠোরভাবে সামরিক আইন আরোপ করতে শুরু করেছে। মিয়ানমারের নাউ টিভি জানিয়েছে, গতকাল সোমবার মিনগিয়ান এলাকায় তিন জন, অংলানে দুই জন এবং মানদালে গুলিতে এক জন নিহত হয়েছে।

ইয়াংগুনে চীনা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা

সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভ হচ্ছে মিয়ানমারের সাবেক রাজধানী এবং দেশের বৃহত্তম শহর ইয়াংগুনে। রবিবার ঐ শহরে চীনা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা হলে শহরের দুটি এলাকায় সামরিক আইন জারি করা হয়। চীনের গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, ইয়াংগুনের হ্লাইং থারাইয়া এলাকায় চীনা মালিকানাধীন ৩২টি ফ্যাক্টরিতে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে ৩৭ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এতে দুই চীনা কর্মী আহত হয়েছেন। মিয়ানমারের চীনা দূতাবাস সেনা সরকারকে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীরা মনে করে, চীন মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে, যদিও রবিবারের চীনা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলার পেছনে কে বা কারা ছিল তা পরিষ্কার নয়।

রবিবারের রক্তপাতের পর গতকাল ইয়াংগুন ও মানদালে শহরের নতুন নতুন এলাকায় সামরিক আইন জারি করা হয়। অর্থাত্, এসব এলাকায় বিক্ষোভকারীদের এখন সামরিক আদালতে বিচার করা যাবে। তবে সোমবারও মানদালে শহরের কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানা গেছে। মধ্যাঞ্চলীয় মিনগিয়ান এবং অংলান শহরেও বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে। অন্যান্য এলাকায় অন্তত ১৬ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যাস্টিট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রাইজনারস (এএপিপি)। সংগঠনটি জানিয়েছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের পর এ নিয়ে ১৪৫ জনের বেশি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্রকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

ঠান্ডা মাথায় গুলি

বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সংবাদদাতা জনাথন হেড বলছেন, রবিবার সৈন্যদের ঠান্ডা মাথায় বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। তিনি বলছেন, সৈন্যরা যেভাবে মৃতদেহ এবং আহতদের টেনে টেনে সরিয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে কোনো দয়ামায়া তারা দেখাতে রাজি নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একাধিক ভিডিও ফুটেজ দেখেই বোঝা যায় বেসামরিক লোকজনকে তারা কতটা অগ্রাহ্য, অস্ত্র উঁচিয়ে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। সেনাবাহিনী দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। বাইরের বিশ্বের উদ্বেগ-ক্ষোভ তারা পাত্তাই দিচ্ছে না। বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, যে সরকারকে তারা ক্ষমতাচ্যুত করেছে, তাদের সঙ্গে আপসের কথা বিবেচনা করার বিন্দুমাত্র কোনো লক্ষণই সেনাবাহিনী এখনো দেখাচ্ছে না।

সু চির মামলার শুনানি পিছিয়েছে

অভ্যুত্থানের পরই ৭৫ বছর বয়সি সু চিকে আটক করা হয়েছিল। তার আইনজীবী খিন মং জ জানিয়েছেন, সোমবার সু চির একটি মামলার শুনানি ছিল। ভিডিও কনফারেন্সে তার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু ইন্টারনেটের অবস্থা ভালো না থাকায় তাকে হাজির করা যায়নি। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২৪ মার্চ।