পাঁচ দশকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল ভিত্তি উন্নয়ন সহযোগিতা

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২১, ২২:৪৫

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাঁচ দশক পরে বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্কের মূল ভিত্তি দাঁড়িয়েছে উন্নয়ন সহযোগিতায়। এর প্রমাণ হলো, ভারত বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৭৮০ কোটি ডলারের সহজ শর্তের ঋণচুক্তি বা লাইন অফ ক্রেডিট রয়েছে যা অন্য কোনো দেশের চেয়ে বেশি।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, উন্নয়নের সহযাত্রী হওয়ার কারণে দুটি দেশকে সম্পদের ভারসাম্যহীনতা, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিকশিত প্রযুক্তির মুখোমুখি হতে হয়। টেকসই দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ এবং ভারত সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং তাদের উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণের জন্য সঠিক পথে রয়েছে বলেই মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১০ সালে ভারত বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য সহজ শর্তে ঋণ দিতে শুরু করে। তখন থেকে বাংলাদেশ ও ভারত ৪৬টি অবকাঠামো প্রকল্পে অংশীদার হয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—১৭টি রেল প্রকল্প যার মধ্যে ৯টি সম্পন্ন হয়েছে, আটটি সড়ক যার মধ্যে তিনটি সমাপ্ত, পাঁচটি বন্দর যার মধ্যে একটি সমাপ্ত এবং বাংলাদেশের একটি বিমানবন্দর। এছাড়াও তিনটি বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন প্রকল্প এবং একটি টেলিকম প্রকল্প রয়েছে। রূপপুরে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই সঞ্চালন লাইনগুলো স্থাপন করা হয়েছিল।

সূত্র মতে, বাংলাদেশ তার আর্থ-সামাজিক সূচকগুলোকে আরো ভালো করতে ঋণ চুক্তিগুলোকে দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করেছে। এটি স্থানীয় আয়, কর্মসংস্থান এবং স্বয়ংসম্পূর্ণতা তৈরিতে সহায়তা করেছে। এমনকি মহামারি চলাকালীন বাংলাদেশ স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদি উভয়ই প্রতিবেশীদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন। উভয় দেশের অর্থনীতিকে জোরদার করার জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা ভাগ করে নেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। উদাহরণস্বরূপ, ভারত রেলওয়ে অবকাঠামো, দ্বিতীয় ভৈরব সেতু, ব্রডগেজ লোকোমোটিভসহ ১২০টি যাত্রীবাহী রেল কোচ, ১০টি ব্রডগেজ ডিজেল-বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভ ও বিভিন্ন প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে। এই চুক্তি ছিল পারস্পরিক সুবিধার লক্ষ্যে। ভারত বাংলাদেশের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন করতে পারছে; একই সঙ্গে বর্ধিত সংযোগের কারণে ভারত, ভুটান এবং নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারিত হতে পারে।

ভারতের পক্ষে উন্নয়ন সহযোগিতার ধারণাটি তার স্বাধীনতা-পরবর্তী অভিজ্ঞতা থেকে উত্সারিত। সহযোগিতার প্রথম উদাহরণটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম। ভারত বুদ্ধিবৃত্তিক ও বৈষয়িক সম্পদ উভয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সমর্থন করেছিল। তবে সমৃদ্ধির পথ ছিল প্রতিকূল। ১৯৪৭ সালে ভারত বিশ্বের জিডিপিতে মাত্র ৩ শতাংশ অবদান রেখেছিল। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পরিচালিত যুদ্ধ বাংলাদেশকে বিধ্বস্ত করেছিল এবং এর প্রবৃদ্ধির হার ছিল বিশ্বের জিডিপির মাত্র ০.০৩ শতাংশ। ১৯৬৪ সালে উদীয়মান দেশগুলোকে দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত বিকাশের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার জন্য ভারতীয় প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা (আইটিইসি) কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল।

উন্নয়ন অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের উপকারের জন্য, উভয় দেশ অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার জন্য আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি সহজ করেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রয়েছে যা প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করতে এবং সম্পদের অপচয় সীমাবদ্ধ করার নিশ্চিত পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে।