এস কে সুর ও শাহ আলমকে গ্রেফতার করছেন না কেন

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২১, ২২:৫১

আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেখভালের দায়িত্বে থেকে পি কে হালদারের অর্থ পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ আসার পরেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও বর্তমান নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমকে গ্রেফতার না করায় দুদকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, এই দুই জনকে গ্রেফতার করছেন না কেন? দুদক পদক্ষেপ না নিলে আদেশ দিতে বাধ্য হব। আগে তাদের গ্রেফতার করুন। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে মেহমানদারি করতে পারেন না। তাদের অবশ্যই গ্রেফতার করে কারাগারে নিতে হবে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ কথা বলেন।

হাইকোর্ট বলে, জাতির পিতা            বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হলে দুর্নীতিবাজদের এই দেশ থেকে বিতাড়িত করতেই হবে। এদিকে পি কে হালদারের দেশত্যাগ ঠেকাতে দুদকের চিঠি ফাঁস হওয়া নিয়ে কোনো পক্ষ দায় নিতে রাজি নয়। এ নিয়ে হাইকোর্ট বলেছে, উনার দেশত্যাগের ক্ষেত্রে দুদকের বা ইমিগ্রেশন পুলিশেরই হোক বা অন্য কারো হোক কারো না কারো আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। কার অবহেলা রয়েছে আমরা সেটা খুঁজে বের করব। আপনাদের বক্তব্য ৬ এপ্রিলের মধ্যে এফিডেভিট করে দাখিল করবেন।

গতকাল শুনানিতে দুদকের আইনজীবীর উদ্দেশে হাইকোর্ট বলে, পি কে হালদারের অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেফতারকৃত দুই আসামির জবানবন্দিতে এস কে সুর ও শাহ আলমের নাম এসেছে, তাদের বিষয়ে দুদক কী পদক্ষেপ নিয়েছে। দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, জবানবন্দিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের কাউকে কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কেউ কেউ পলাতক। কমিশনের চিঠির ভিত্তিতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ এস কে সুর ও শাহ আলমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে।

প্রসঙ্গত পি কে হালদারের দুই সহযোগী ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হক ও পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এস কে সুর ও শাহ আলমের নাম আসে।

দুই প্রতিবেদন হাইকোর্টে

পি কে হালদার পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের ৫৯ জন সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। তাদের নামের তালিকা আদালতে দাখিল করা হয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনউদ্দিন মানিক বলেন, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর বিকাল পৌনে ৪টায় যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পি কে হালদার দেশ ত্যাগ করেন। এক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন পুলিশের কোনো ব্যর্থতা বা গাফিলতি ছিল না। পি কে হালদারের পালিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত দুদকের চিঠি তারা পেয়েছে তার পালিয়ে যাওয়ার পরে।

অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী বলেন, পি কে হালদারের দেশত্যাগ ঠেকাতে দুদকের লিখিত চিঠির কপি ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক রিসিভ করেছেন ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায়। সেটা আরো কনফার্ম করতে সেই চিঠি হোয়াটস অ্যাপে পাঠানো হয় ২টা ৪৩ মিনিটে। সেটা যে তারা রিসিভ করেছেন, সেটিও দুদকের কাছে আছে। সুতরাং দুদকের এখানে কোনো অবহেলা ছিল না।