অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় ইউরোপের বেশ কিছু রাষ্ট্র এর ব্যবহার স্থাগিত ঘোষণা করেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সব শঙ্কা উড়িয়ে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা আজ মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) টিকা নিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
এর আগে, টিকা নেয়ার পর রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার ওপর ভিত্তি করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের আহ্বানে থাইল্যান্ডেও টিকাদান স্থগিত করা হয়েছিলো।
রয়টার্স জানায়, মঙ্গলবার থাই প্রধানমন্ত্রীর টিকা নেয়ার মাধ্যমে দেশটিতে আবারও টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ তার বাম হাতে টিকা নেয়ার আগে সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ আমি সাধারণ মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছি। টিকা নেয়ার পর তার কোনো সমস্যা হয়নি।’
সোমবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা নেয়ার কারণে শরীরে রক্ত জমাট বাধতে পারে এমন খবরে কোনো সত্যতা নেই, অনেক দেশের পক্ষ থেকে এমন কথা বলার পর থাইল্যান্ডে পুনরায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
এদিকে, ইউরোপের ছয় দেশকে অনুসরণ করে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনা টিকা ব্যবহারে স্থগিতাদেশ জারি করেছে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে টিকা গ্রহীতাদের শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কয়েকটি ঘটনা সামনে আসায় এর আগে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার ব্যবহার স্থগিত করেছিল আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক, বুলগেরিয়া, আইসল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি।
জানা যায়, ইউরোপে এই টিকা নেওয়ার পর রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। মহাদেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ মানুষ এই টিকার এক ডোজ করে গ্রহণ করেছেন এবং তার মধ্যে ৪০টির মতো রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার ঘটনা জানা গেছে।
এসব ঘটনা সামনে আসার পর গতকাল সোমবার (১৫ মার্চ) জার্মানি, ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্স স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই টিকার ব্যবহার বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।
তবে এই টিকা ব্যবহার বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ডব্লিউএইচও জানায়, এই টিকা গ্রহণের পর রক্ত জমাট বেঁধে মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখন পর্যন্ত নেই। তবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকা বিশেষজ্ঞরা মঙ্গলবার এই টিকা নিয়ে ফের বৈঠক করবেন।
ইত্তেফাক/টিআর
