কক্সবাজারে অপহরণের পর ধর্ষণ মামলায় নারীসহ দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-১। একই সাথে তাদের পৃথক ৭০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিকেলে জনাকীর্ণ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-১ এর বিচারক মোসলেহ্ উদ্দিন এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের সাত ঘরিয়াপাড়া এলাকার মৃত নজির আহম্মদের ছেলে শহীদুল্লাহ বৈদ্য (৫৫) এবং একই উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সিকদার পাড়া এলাকার নুরুল আবচারের স্ত্রী শাহজাহান বেগম।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-১ এর সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এ্যাডভোকেট তাপস রক্ষিত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত ও রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, মামলায় বাদী, ভিকটিম, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ৭ জনের সাক্ষী নিয়েছে আদালত। সাক্ষীদের দেয়া সাক্ষ্যের যুক্তিতর্ক শেষে আসামি শহীদুল্লাহ বিরুদ্ধে আনীত ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৭, ৯(১) ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দেন। অন্য আসামি শাহজাহান বেগমকে ধর্ষণে সহযোগিতা করায় ৭ ও ৯(১), ৩০ ধারায়ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। সাথে ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশও দেয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সিকদার পাড়া এলাকার জনৈক নুরুল আবচারের স্ত্রী শাহজাহান বেগম দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীর সাথে পারিবারিক বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। সংসারের সমস্যা দুর করতে তিনি বদরখালী ইউনিয়নের সাত ঘরিয়াপাড়া এলাকার নজির আহম্মদের ছেলে শহীদুল্লাহ বৈদ্যের (৫৫) শরণাপন্ন হন। বৈদ্য তাকে (শাহজান বেগম) বলেন যে, তার পারিবারিক সমস্যা দুর করতে একজন ১০ বছরের শিশু কন্যার প্রয়োজন। বৈদ্যের কথা শোনে পার্শ্ববর্তী বাদীর কন্যা ছকিনাকে (ছন্দনাম) ২০১৮ সালের ৯ ডিসেম্বর বিকেলে অপহরণ করেন বদখালী বেড়ুয়াখালী পাড়ার অপর আসামি শহীদুল্লাহ বৈদ্যের বোনের বাসায় নিয়ে যান শাহজাহান বেগম। সেখানে শাহীদুল্লাহার হাতে ধর্ষণের শিকার হন শিশুটি। পরের দিন ১০ ডিসেম্বর সকালে ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত শাহজাহান বেগম। মায়ের কাছে আসতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ধর্ষণের শিকার শিশু। এবং তার মাকে বৈদ্য কর্তৃক ধর্ষণের বিষয়টি খুলে বলেন। এরপরই বাদি (পরিচয় গোপন করা হলো) চকরিয়া থানায় ধর্ষক শহীদুল্লাহ ও ধর্ষণের সহযোগিতাকারী শাহাজাহান বেগমকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় মামলা দায়ের করেন (যার নং-১৯/১৮। (জি আর ৭৪৩/১৮, বর্তমানে নারী মামলা ৪২৬/১৯।)। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত শেষে গেল ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ পত্র আমলে নিয়ে চার্জ গঠন করে ৭ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। দীর্ঘ যুক্তি তর্ক শেষে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিজ্ঞ আদালত চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা কাটগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তাদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমদ চৌধুরী।
ইত্তেফাক/এমএএম
