বহুমুখী প্রতিভার একজন শিল্পী সাজু খাদেম। অনস্ক্রিনের চরিত্রের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন যিনি অনায়াসেই। কথা বলেন যেমন হুমায়ূন ফরিদীর ঢংয়ে। বেঁচে থাকতেও ফরিদী সাজু খাদেমের অভিনয়ের ভীষণ প্রশংসা করতেন। সাম্প্রতিক কাজ ও প্রবণতা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। লিখেছেন এ এম রুবেল
নতুন কাজের ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি—
বর্তমানে মোস্তফা কামাল রাজের ‘হিট’ শিরোনামের একটি নতুন নাটকে অভিনয় করছি। এছাড়া বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে আমার বেশ কিছু নাটক প্রচার হচ্ছে, সেগুলোর কাজে সময় দিচ্ছি।
এখন তো ভিউ গোনা একটি টেন্ডে পরিণত হয়েছে। চ্যানেলগুলোকে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বলা চলে। এটা পীড়াদায়ক মনে হয় কি-না?
আমি একটা কথা বিশ্বাস করি, সময় সময়ের মতো করে চলবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই কিন্তু চলতে হবে। মানুষের জীবন এখন অনেক ফাস্ট হয়েছে। তারাও ছোট একটি জিনিস দেখেই সেটার সমালোচনা করেন। একটি নাটক বা গল্প দেখে চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ করার মানুষ কী এখন আছে! কোনো চ্যানেল ভাবছে না সবাই কাজটি দেখছে কি-না। ১৬ কোটি লোকের মধ্যে ১ কোটি ভিউ হলেই তারা ভাবছে টিআরপি ঠিক আছে। তাদের দর্শক আছে। তখনই কিন্তু একটা দুর্নীতি শুরু হয়ে যায়। তারা এই ভিউ বাড়ানোর ফর্মূলা খুঁজতে থাকে। এখানেই আমরা নির্ণয় করতে পারি না কোনটা ফর্মূলার ভিউ, আর কোনটা অর্গানিক ভিউ। সবই এখন বাণিজ্যে চলে গেছে। তাই বলবো ভিউটা সব না।
এখনকার ওয়েব সিরিজ ও নাটকে অশ্লীল দৃশ্য বা সংলাপ ব্যবহারকে অবক্ষয় নাকি সময়ের ধারাবাহিকতা বলবেন?
যদি নাটককে হিট করতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ ধরনের দৃশ্য বা সংলাপ ব্যবহার করা হয় তো আমি বলবো সেটা অপরাধ। তবে গল্পের প্রয়োজনে যদি ব্যবহার করে তাহলে সেটাকে আমি অপরাধ মনে করি না। আমরা কিন্তু বাইরের অনেক ছবিতেই এ ধরনের সংলাপ দেখেছি এবং মজাও পেয়েছি। তবে এটাও আমাদের ভাবতে হবে যে, এ ধরনের কাজ আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় কি-না! আমরা সব ক্ষেত্রেই নিজেস্ব সংস্কৃতিকে তুলে না ধরে একটা কালেক্টিভ সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করছি। এটার পরিবর্তনের জন্য সার্বিক শিক্ষাটা জরুরি।
জনপ্রিয়তা বা কাজের স্বার্থে খারাপ সময়েও সকলের সঙ্গে মিথ্যে করে হলেও ভালো সম্পর্ক রাখতে হয়। এই ব্যাপারটা কেমন লাগে?
প্রথমত, আমাদের জীবনটাই কিন্তু এক ধরনের মিথ্যে দিয়ে ঢাকা। সকালে যে মানুষটি ঘুম থেকে ওঠে, সারাদিন কিন্তু সে নিজের মধ্যে থাকে না। মেকাপ নেওয়ার পরই সে কখনো ভুবন, কখনো কাদের, কখনো বা কুদ্দুস। ঘুমানোর আগ অবধি কিন্তু মিথ্যে জীবনেই থাকি। তাই এখন আমার মনে হয় ব্যক্তিজীবনেও মিথ্যে জীবনই কাটচ্ছি। কারণ এখন রাস্তায় বের হলেও ভাবতে হয় মেপে কথা বলতে হবে, কেউ চিনে ফেলবে কি-না সেদিকে খেয়াল রেখে চলতে হবে। আমি সাজু যেভাবে চলতে পছন্দ করি সেভাবে চলতে পারি না।
আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই স্ক্রিপ্ট ছাড়া অভিনয়ের একটা প্রচলন শুরু হয়েছে। পুরনো থেকে শুরু করে তরুণ পরিচালকরাও এ পথে হাঁটছেন। বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
টেলিভিন নাটকের ক্ষেত্রে আমার মনে হয় যে, সকলেই এখন পরিচালক হয়ে গেছেন, সকলেই মনে করেন তারা খুব ভালো কাজ করছেন। কিন্তু তারা জানে না যন্ত্রপাতিগুলো তাদের কী পরিমাণ সহযোগিতা করছে। এখন একটি আইফোন দিয়ে কাজ করলেও ভালো ছবি হচ্ছে। কিন্তু এটা তো আইফোনের ক্রেডিট। আমাদের তরুণ পরিচালক বা অভিনেতা বলেন, তাদের বেসিকটা আগে শিখতে হবে। বেসিক শিখলে একটা নান্দনিকতা তৈরি হয়। কিন্তু আমাদের একটা অভ্যেস হয়ে গেছে, আমরা যা ইচ্ছে তা আগে করতে চাই। স্ক্রিপ্ট ছাড়া কাজ করতেই পারেন, তবে এ ধরনের কাজ কীভাবে করতে হয় সেটা আগে জানতে হবে। নন আর্টিস্টকে আর্টিস্ট করা কোনো ক্রেডিট না।
হুমায়ূন ফরিদীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক অনেক ভালো ছিল। এমনকি আপনি তাকে কপিও করেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?
ইনি কেন আমাকে এত ভালোবাসতেন জানি না। এমনও হতো যে, ওনার সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে র্তকও হচ্ছে। একটু পরই উনি হেসে বলতেন তোকে পরীক্ষা করলাম। আর কপি করার বিষয়টি কিন্তু উনি এক সময় জানতে পেরেছিলেন এবং এটাতে তিনি অনেক মজাও পেতেন। এমনও হয়েছে যে, দেখা হলেই উনি বলতেন, ‘বল তো আমি কেমন করে কথা বলি।’ তার অভিনয় নিয়ে বলবো, উনি কোন ঢংয়ে অভিনয় করলেন সেটা মুখ্য নয়, উনি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছেন এটাই বড় কথা।
