উত্তরায় রাজউকের প্লটে সাড়ে ৪শ’ অবৈধ দোকান

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২১, ২১:৪৮

নিলয় মামুন

রাজধানীর উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউকের অবরাদ্দকৃত তিনটি প্লট দখল করে রেখেছে একটি প্রভাবশালী চক্র। সেখানে প্রায় ৪৫০ অবৈধ দোকান তুলে ভাড়া উত্তোলন করছে তারা। প্রতিদিন সেই দোকান থেকে ২৫০ টাকা করে মাসে প্রায় ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উত্তোলন করছে সেই চক্র। দুটি সমিতির নামে এ অর্থ উত্তোলন করলেও সিংহভাগ টাকাই যাচ্ছে প্রভাবশালীদের পকেটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ডালভাত কর্মসূচির সময় এই প্লটগুলো ব্যবহার করে বিজিবি (তত্কালীন বিডিআর)। তখন এখানে কাঁচাবাজারসহ দৈনন্দিন জিনিসের দোকান গড়ে ওঠে। ২০০৯ সালে ডালভাত কর্মসূচি শেষে বিজিবি প্লটগুলো ছেড়ে দেয়। এর পরেই এগুলো দখলে চলে যায় কথিত সমিতির কাছে। ৬ নম্বর সেক্টর নিত্যপ্রয়োজনীয় ক্রেতা-বিক্রেতা বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে দোকানদারদের কাছ থেকে উত্তোলন শুরু হয় মোটা অঙ্কের টাকা। প্রথমে তারা দৈনিক ৫০ টাকা করে প্রত্যেক দোকান থেকে আদায় করলেও পরে প্রায় ২০০ টাকা করে নির্ধারণ করে। এত টাকা নির্ধারণ করার কারণে ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ জানালে শুরু হয় সমিতির সঙ্গে ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্ব। এর পরেই গড়ে ওঠে উত্তরা সেক্টর ৬ কাঁচাবাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি। এই সমিতির মাধ্যমে বাজার দখলে নেয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলী রাজ। তিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে অন্য সমিতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিদিন উত্তোলন করতে থাকেন টাকা। দুই সমিতি দুই দফায় টাকা উত্তোলন শুরু করে।

কাঁচাবাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলী রাজ জানান, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে নেওয়া হয়। এর বেশি নেওয়া হয় না। অথচ এখানকার দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন তারা দোকানভেদে ২৫০ টাকা হারে মাসে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে পরিশোধ করেন। দোকানদারদের কাছ থেকে উত্তোলন করা টাকা কার কার কাছে যায়, এমন প্রশ্নে আলী রাজ জানান, বাজারের সিকিউরিটি গার্ডের বেতন, জেনারেটর খরচ বাবদ এসব খরচ হয়। এছাড়া যে টাকা থাকে এই টাকা বিভিন্ন জায়গায় দিতে হয় বলে তিনি জানান। সরকারি জায়গা দখল করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জানি এটি সরকারি জায়গা। যখন উচ্ছেদ করবে তখন চলে যাব।

রাজউক সূত্রে জানা যায়, বিজিবি এই প্লটগুলো ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে তখন রাজউককে অবহিত করে। এরপরেও দীর্ঘদিন এগুলো একটি প্রভাবশালী চক্র দখল করে দোকান পরিচালনা করছে। এ সম্পর্কে রাজউকের সহকারী পরিচালক (স্টেট ও ভূমি) আসাদুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, আমরা এসব প্লট কাউকে বরাদ্দ দেইনি। আমাদের বর্তমান অফিস সেখানে স্থানান্তর করারও একটা চিন্তা আছে।

এ বিষয়ে রাজউকের উপ-পরিচালক (স্টেট ও ভূমি) নাদিমুল ইসলাম বলেন, আমরা এরই মধ্যে প্লটগুলো উচ্ছেদের জন্য ফাইল প্রস্তুত করছি। অচিরেই আমরা প্লটগুলো দখলমুক্ত করব।