চার দশক ধরে লেখালেখি করেন। বিচরণ করেছেন সাহিত্যের সব অঙ্গনে। দেখার ক্ষমতা তাকে লেখক করেছে। তবে তিনি নারী সাহিত্যিক হিসেবেই গর্ববোধ করেন। তিনি কথাসাহিত্যিক ঝর্না রহমান। সাহিত্য ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য পেয়েছেন ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার-১৪২৭’। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ঝর্না রহমান পাঠককে খুব সহজে সঙ্গী করতে পারেন। তার একটি ভাষা আছে, তিনি নিজস্ব একটি ভাষা তৈরি করে নিয়েছেন। কিছুক্ষণ পড়লেই বোঝা যায় ঝর্না রহমানের লেখাই পড়ছি। তিনি আরো বলেন, সাহিত্য অনেকগুলো মুহূর্ত নিয়ে হয়। তবে সব মুহূর্ত সাহিত্যে আসে না, সব মুহূর্ত সাহিত্যিক ধরতেও পারে না। যেটা পাঠক মনে রাখে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। ঝর্না রহমানের লেখা পড়লে এমন অনেক মুহূর্ত মনে দাগ কেটে যাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক ইত্তেফাক ও অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন লেখক-নির্মাতা ফরিদুর রহমান। অতিথিরা ঝর্না রহমানের হাতে উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও সম্মাননার অর্থ তুলে দেন। সম্মাননা অর্থ হিসেবে ১ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে তাসমিমা হোসেন বলেন, ‘করোনা আমাদের মধ্যে একটি দারুণ রকম পরিবর্তন এনে দিয়েছে। আমরা নতুনভাবে চলতে শিখছি। জীবনটা খুব সুন্দর। ঝর্নার লেখা এত সুন্দর সেটা এই দুঃসময়ে পড়ে বুঝেছি। ঝর্নার মতো অসংখ্য গুণী মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে।’ তিনি আরো বলেন, আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি যারা ধরে রাখতে পেরেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম বাংলার সাধারণ নারীরা। আগামী দিনের সাহিত্য এই পরিবর্তন নির্ভর হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফরিদুর রহমান বলেন, ‘ঝর্না রহমান যখন লিখেন তখন জেন্ডার নিরপেক্ষ হয়ে ওঠেন। নির্ভুল বাক্য লেখেন। ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যার মধ্যে দিয়ে তাকে চেনা যায়।’
অভিব্যক্তি জানাতে গিয়ে লেখক ঝর্না রহমান বলেন, ‘অনন্যা দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে সাহিত্য পুরস্কৃত করার কাজটুকু দক্ষতার সঙ্গে করে আসছে। যেসব নারী তাদের জীবন, শিল্প-সংস্কৃতি দিয়ে নিজের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তাদের এখানে পুরস্কৃত করা হয়। এ তালিকায় আমার নাম যে সংযোজিত হচ্ছে, তা অত্যন্ত আনন্দের, সম্মানের।’ তিনি আরো বলেন, ‘দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিয়ে হয়ে যায়। জীবনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছি। সহযোগী হয়েছেন স্বামী-সন্তান, বাবা-মা।’ তিনি পুরস্কারটি বাবা-মাকে উত্সর্গ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে যুদ্ধ শিশুদের ওপর কবিতা ‘অপরা?হ্ন’ আবৃত্তি করেন লায়লা আফরোজ। তাপস কুমার দত্ত নির্মিত ঝর্না রহমানের ওপর তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে নারী দিবস উপলক্ষ্যে অনন্যা আয়োজিত রচনা, প্রবন্ধ ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করেন দৈনিক ইত্তেফাক ও অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। ১২ বিজয়ী নারী দিবসের সম্মাননা পান। পরে নারীভিত্তিক ব্যান্ড এফ-মাইনরের সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
উল্লেখ্য, বাংলা ১৪০১ সনে (১৯৯৩ সাল) অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। প্রতি বছর এক জন নারী-সাহিত্যিককে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ যাবত্ ২৬ জন সাহিত্যিককে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
