সাহাপুর মিতালী মাঠ

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২১, ২১:৫১

ইদানীং বাবা-মায়েরা অভিযোগ করেন— তাঁদের সন্তানেরা সারাক্ষণ মোবাইলফোন নিয়ে বসে থাকে। পাবজি, ফ্রি-ফায়ার ইত্যাদি গেম নিয়ে ব্যস্ত থাকে অথবা ফেসবুকে ডুবে থাকে। মা-বাবারা নাকি সন্তানদের ঠেলেও মাঠে পাঠাতে পারছেন না। খুবই কষ্টের কথা। এবার আমার এলাকার কথাই বলি—আমরা বন্ধুরা দল বেঁধে খেলতাম। সংখ্যায় বেশি হয়ে গেলে দু দলে ভাগ হয়ে খেলতাম। ডাকবাংলো মাঠ হচ্ছে বাজিতপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় ও কেন্দ্রীয় মাঠ। কলেজ মাঠেও খেলেছি। আমাদের দিঘিরপাড় ইউনিয়নে একটিমাত্র খেলার মাঠ। হাই স্কুল হওয়ার পর সেটা কিছুটা ছুট হয়েছিল। তবে ক্রিকেট, ফুটবল ও সবধরনের খেলার জন্য যথেষ্ট ছিল। ইদানীং হাই স্কুল চারতলা হয়েছে। আগের থেকে বড়োও হয়েছে। খেলার জায়গা কমেছে। কিন্তু সর্বশেষ আশ্রয়কেন্দ্র বানানোর পর এখানে খেলার মাঠ বলতে আর কিছু থাকল না। প্রশ্ন হলো—সমাজের সচেতন মানুষ যাঁরা আছেন তাঁদের মাথায় কেন এলো না যে ‘আমাদের সন্তানরা কোথায় খেলবে?’

সাহাপুরে ঘোড়াউত্রা নদীর পাড়ে একটা মাঠ আছে। নাম ‘মিতালী মাঠ’। যেটাকে সাহাপুরের সব মানুষ তাদের নিজেদের মাঠ (ঘরের মাঠ) মনে করে। কারণ প্রায় সবারই বাপ-দাদা এই মাঠে খেলাধুলা করেছেন। নদীর পাড় ঘেঁষে ‘সাহাপুর মিতালী মাঠে’র মতো এমন দৃষ্টিনন্দন মাঠ কেবল বাজিতপুর নয়, কিশোরগঞ্জ জেলাতে আছে কি না সন্দেহ। গত শতাব্দের ৬০-এর দশকে সাহাপুরের ছাত্ররা মূলত রাস্তার পাশে পতিত জমিতে খেলাধুলা করত। ১৯৬৪ সালে ডা. রামানন্দ ইন্ডিয়া চলে গেলে তাঁর বিশাল পতিত বাড়িতে ১৯৬৬ সালে সাহাপুরের ছাত্ররা খেলার মাঠ তৈরি করে, ১৯৭২ সালে ‘মিতালী ছাত্র সংঘ’ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কিছু জায়গা-জমি কিনে গ্রামের ভেতর থেকে নদীর পাড়ে প্রতিষ্ঠা হয় খেলার মাঠ।  আমার বাবা ডা. আসগর আহমদও এ মাঠের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ১৯৭৭ সালে তিনি সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।  ঐ সময় সাহাপুর মিতালী মাঠকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম প্রসার লাভ করে। ৯০ দশক পর্যন্ত সাহাপুর মিতালী মাঠকেন্দ্রিক খেলাধুলা মোটামুটি চালু ছিল। ক্রিকেট ও ফুটবল লীগ হতো। দর্শকও উপচে পড়ত। কিছুদিন আগে মাঠ ঘুরে এলাম। বেহাল দশা। খানাখন্দে ভরপুর। মনে হচ্ছে যেন যৌবন শেষে এখন বার্ধক্যে নিমজ্জিত!

মাঠ না থাকলে সন্তানরা তো অসামাজিক হবেই। ভবিষ্যত্ প্রজন্মের সুস্থতার জন্য মাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন—সাহাপুর মিতালী মাঠ রক্ষা করে খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক কাজে ছেলেমেয়েদের উত্সাহিত করুন।

সৃজন আহমদ

বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ