ইত্তেফাক রিপোর্ট
শেয়ারবাজার চাঙা করতে ব্যাংকগুলো বিশেষ তহবিলে আকার বাড়ছে। ২৬টি ব্যাংক নতুন করে আরো ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করবে। এতে সব মিলিয়ে তহবিলের আকার দাঁড়াবে ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, শেয়ারবাজারের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সে অনুযায়ী ২৬টি ব্যাংক ইতিমধ্যেই ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা তহবিলও গঠন করেছে। অবশ্য এ তহবিলের মধ্যে ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে ব্যাংকগুলো। বাকি টাকা শিগিগরই বিনিয়োগে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাসুদ বিশ্বাস বলেন, ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে বিশেষ তহবিলে বিনিয়োগের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা তদারকি করছি। শিগিগরই ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করবে বলে প্রত্যাশা করছি।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তপশিলি ব্যাংকগুলোকে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংক উত্সাহিত করবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। এছাড়াও যেসব ব্যাংক পুঁজিবাজারে বন্ড ছেড়ে মূলধন বাড়াতে চায়, তাদের শর্ত দেওয়া হবে যে, ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের বিনিয়োগ থাকতে হবে। বেশির ভাগ ব্যাংক বন্ড ছেড়ে মূলধন বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছে। আশা করছি, শিগিগরই ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকগুলোর এই বিনিয়োগ পুঁজিবাজারের জন্য ভালো হবে। তবে ব্যাংকগুলোর অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য নয়, বরং দেশের অর্থনীতির অন্যান্য সেক্টরে বিনিয়োগ বেশি দরকার। তাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে। অর্থনীতির আকার বাড়বে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে বাজার চাঙা হবে। কম দামে থাকা শেয়ারগুলো যৌক্তিক দামে আসবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে বিশেষ তহবিল গঠন করে বিনিয়োগ করবে বলে সম্মতি প্রকাশ করেছে; কিন্তু এখনো পাঁচ ভাগের এক ভাগ বিনিয়োগ করেছে। অর্থাত্ আরো চার ভাগ করতে হবে।
বর্তমানে পুঁজিবাজারে মোট ৩০টি ব্যাংক তালিকাভুক্ত রয়েছে। আগামী সপ্তাহে আরো একটি বেসরকারি ব্যাংক তালিকাভুক্ত হবে। এ নিয়ে ৩১টি ব্যাংক তালিকাভুক্ত হবে। মূলধনের দিক থেকে এই ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারের ২৫-৩০ শতাংশ অবদান রাখে।
পুঁজিবাজারে তালিকভুক্ত ব্যাংকগুলো হলো—এবি ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইউসিবি ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড। এছাড়া এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক তালিকাভুক্ত ব্যাংক হিসেবে শিগিগরই পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করবে।
