অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সেই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ, যিনি বাঙালি জাতিকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সুদীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে প্রকৃত স্বাধীন সত্ত্বা উপহার দিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠা করেছেন স্বাধীন বাংলাদেশ।
বুধবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন এলাকার নাঙ্গলকোট, লালমাই ও সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু উপনিবেশ-শৃঙ্খলিত একটি ঘুমন্ত জাতিকে জাগ্রত করেছেন এবং তাদের করে তুলেছেন স্বপ্নমুখি, রক্তমুখি ও মুক্তিমুখি। এই যে একটি জাতির মানস প্রকল্পকে জাগিয়ে তোলা- এটাই বঙ্গবন্ধুর অক্ষয় অবদান। কেবল রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তিই নয়, বাংলাদেশের ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতির মুক্তিসংগ্রামেও অন্যতম নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাঁর সৃষ্ট জাতীয়তাবাদের মহামোহনায় মিশেছে সমগ্র বাঙালি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময়ে এদেশের প্রত্যেক মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বিদ্যুৎ, কৃষি ও সমবায়, শিল্প ও বিজ্ঞান, গৃহনির্মাণ, অর্থনীতি ও বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা, শিল্প ব্যবস্থাপনা জাতীয়করণ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছিলেন। তিনি অসংখ্য নীতি, পরিকল্পনা ও আইনের উদ্যোক্তা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিশুদের জন্য একটি সুন্দর বাসযোগ্য বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, শিশুদের মাধ্যমেই তা পূরণ হবে।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে একটি চক্র দেশের অগ্রগতি থামিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ভৌগলিক মুক্তি, সেটা তিনি দিয়ে গেছেন। তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করছে। শেখ হাসিনা সরকারের আন্তরিকতায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশীষ ঘোষ, লালমাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মালেক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এবং নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লামইয়া সাইফুল প্রমুখ।
ইত্তেফাক/এমআর
