বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার দর্শন বিশ্বের সংঘাত ও সন্ত্রাস মোকাবিলা করতে পারে। বর্তমান বিশ্বে দেশে দেশে যে সংঘাত, গৃহযুদ্ধ, সন্ত্রাস ও বৈষম্য হচ্ছে, এর প্রধান কারণ ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার, অমানবিক স্বৈরশাসন এবং আধিপত্যবাদ। বঙ্গবন্ধুর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান। যা প্রকৃত অর্থে তার রাজনৈতিক দর্শনের দর্পণ। এই সংবিধানে শোষণ-বৈষম্যমুক্ত ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক সমাজ নির্মাণের পূর্বশর্ত হিসেবে ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
গতকাল বুধবার বিকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মশতবার্ষিকীতে আয়োজিত আর্ন্তজাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘দেশে ও বিদেশে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন ঊর্ধ্বে তুলে ধরার ক্ষেত্রে নির্মূল কমিটির করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনারের আয়োজন করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। আন্তর্জাতিকভাবে বঙ্গবন্ধুকে পরিচিত করার জন্য বঙ্গবন্ধুর ওপর একটি শান্তি পুরস্কারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে জানান বক্তারা।
সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে সাড়ম্বরে পালনের বহুমাত্রিক উদ্যোগ সরকারিভাবে গ্রহণ করা হলেও জাতির পিতার রাজনৈতিক দর্শন— ধর্মনিরপেক্ষ মানবতা ও বিশ্বশান্তির ব্যবস্থাপত্র দেশে কিংবা দেশের বাইরে প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। শিল্পী হাশেম খান বলেন, আমাদের স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন—১৯৭১ সালের ৭ কোটি মানুষের দর্শন। বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ তথা বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ দর্শন প্রচারের ক্ষেত্রে অতীতের মতো সামনেও অন্ধকার দেখছি। সাম্প্রদায়িক অন্ধকারের শক্তিকে বুঝে একে প্রতিহত করার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
আরো বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ শহিদজায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী, সমাজসেবক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ডা. আমজাদ হোসেন, নির্মূল কমিটির নরওয়ে শাখা সভাপতি লেখক খোরশেদ আহমদ, সুইজারল্যান্ড শাখার সভাপতি সমাজকর্মী রহমান খলিলুর, অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি মানবাধিকারকর্মী একরাম চৌধুরী প্রমুখ।
