চিত্রনায়ক মান্না মারা যাওয়ার পর অনেকরকম সমীকরণই চলেছে। কিন্তু শাকিব খানের ওপরেই আস্থা রেখেছেন দর্শকরা।
এদিকে নির্মাতারাও আরেকজন শাকিব তৈরি করতে পারছেন না কিংবা শাকিব খানকে ঠিকঠাকমতো ব্যবহার করতে পারছেন না ইত্যাদি নানা অঙ্কের যোগ-বিয়োগ হয়েছে এতকাল। তবু এ সময়ের চলচ্চিত্রে শাকিব খানকে অস্বীকার করাটা একেবারেই অন্যায়। সিনেমার লগ্নি উঠে আসার গল্পে গত ১২ বছর ধরে একাই সফলতায় শাকিব খান।
তাই করোনা উত্তর এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আবারো কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে সেটিও শাকিবকে ছাড়া ভাবতে পারছেন না ইন্ডাস্ট্রির কুশীলবরা। সামনে ঈদে আসছে তার নতুন ছবি ‘অন্তরাত্মা’। এছাড়া বুবলীর সঙ্গে আরেকটি ছবির চুক্তি গড়েছেন। বারবার বিভিন্ন কুটতর্ক নিয়ে শাকিব বলেন, ‘দেখুন, আমার কাজ ফিল্মকে ব্যবসাসফল করা। এই কাজটিই আমি খুব হিসেব করে করেছি সবসময়। কারণ গত প্রায় দুই যুগ ধরে তো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি দেখলাম। এখানে আসলে কেউ কারো নয়। কিন্তু যে শীর্ষে থাকে তার ওপরে আবার সব দায়িত্ব অর্পণ করতে চায়। আমাদের এখানেই মূল সমস্যা।’
মাস কয়েক আগে অনন্য মামুনের ‘নবাব এলএলবি’ ছবিটি নিয়ে দেশে নানা বিতর্ক তৈরি হলেও শাকিব খানের জন্য তা অন্য এক মাত্রা এনেছে। কারণ ছবিটি নিষিদ্ধ বা দৃশ্য কর্তনের বিষয়টি নিয়ে বিদেশের নানা গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবং সেসব প্রতিবেদনে শাকিব খানকে এদেশের ‘মেগাস্টার’ হিসেবে সম্বোধন করেছে মিডিয়াগুলো।
দেশের গোটা ইন্ডাস্ট্রির সফলতার অঙ্ক যার হাতে তাকে দেশের মেগাস্টার বলাটা অত্ত্যুক্তি হয় না। অন্যদিকে শাকিব খানের পাশাপাশি অন্য অনেক তারকার ছবি রিলিজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতে বিপণনের অঙ্কে লগ্নি ফেরতের হাসি কোনো প্রযোজক দেখতে পারেননি।
তাই সৌখিন প্রযোজকদের কাছে হয়তো অন্য অনেক নায়কই যুত্সই। কিন্তু পেশাদার প্রযোজকরা বারবারই শাকিব খানকেই খুঁজেছেন।
তবে জাজ মাল্টিমিডিয়া সিনেমা প্রকাশে অনিয়মিত হয়ে গেলে শাপলা মিডিয়া যখন ভরসা, তখন সেখানে শাকিব খানের সঙ্গে শাপলা মিডিয়ার বৈপরীত্য অবস্থান পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য ক্ষতিকারক বলে মনে করছেন অনেকেই। তাই করোনাকালীন দীর্ঘ ১ বছর স্থবির এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে আবার পূর্ণ উদ্যোমে ফিরিয়ে আনতে হলে প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ। কারণ শাকিব খানকে ঠিকঠাকমতো ব্যবহার করতে পারলেই যে সিনেমার লগ্নি ফেরত আসে তা গত ১২ বছরের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বারবার প্রমাণিত হয়েছে।
