ভারত থেকে চাল আমদানি করেও আমদানিকারকরা চাল খালাস না নেওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে প্রায় ১০ দিন ধরে আটকা পড়ে আছে ভারতীয় ১৮৯টি চালভর্তি ট্রাক। আমদানিকারকরা বলছেন, আমদানি মূল্যের চেয়ে পাইকারি বাজারে দাম কম হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় চাল খালাস নিচ্ছেন না তারা। দীর্ঘদিন থেকে চাল খালাস না করায় বাংলাদেশে আটকা পড়ে দুর্ভোগে রয়েছেন ভারতীয় ট্রাকচালক ও হেলপাররা। খাবারসহ বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে দিনাপাত করছেন বলে অভিযোগ ট্রাকচালকদের।
হিলি স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহবার হোসেন মল্লিক জানান, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত এই বন্দরে ভারত থেকে এসেছে ১৮৯টি চালভর্তি ট্রাক। এসব ট্রাকে আমদানি করা হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ টন চাল। একটি ট্রাক সাধারণত এক দিন বা দুই দিনের মধ্যে আমদানিকৃত পণ্য খালাস নেওয়ার পর ভারতে ফিরে যায়। কিন্তু গত ১০ দিন ধরে আমদানিকারকরা এসব চাল খালাস না নেওয়ায় বন্দরে স্থান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিটি ট্রাকের সঙ্গে ভারত থেকে আসে একজন চালক ও একজন হেলপার। আমদানিকারকরা চাল খালাস না নেওয়ায় ১৮৯টি ট্রাকের সঙ্গে ২৭৮ জন ট্রাকচালক ও হেলপার বাংলাদেশে আটকা পড়ে আছেন। তিনি জানান, দ্রুত চাল খালাসের দাবিতে গত চার দিন ধরে বন্দরের ভেতর বিক্ষোভ করছে ভারতীয় ট্রাকচালক ও হেলপাররা। হিলি স্থল বন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট সেরেগুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে ৪৫০ থেকে ৪৭০ মার্কিন ডলারে চাল আমদানি করতে হচ্ছে। এই হিসেবে প্রতি কেজি চাল ৪২ টাকার নিচে বিক্রি করলে আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আর পাইকারি বাজারে ৪২ টাকা দাম না পাওয়ায় আমদানিকারকরা চাল খালাস নিচ্ছেন না।
চাল আমদানিকারক আব্দুল হাকিম মণ্ডল জানান, চাল আমদানির এলসি খোলার সময় বাংলাদেশের বাজারে চালের দাম বেশি ছিল, কিন্তু এখন পাইকারি বাজারে দাম কমে গেছে। ভারতীয় চাল রপ্তানিকারকরা সময়মতো চাল সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় চাল খালাস করে পাইকারি বাজারে বিক্রি করতে গেলে তাকে লোকসান গুনতে হবে। আব্দুল হাকিম মণ্ডল বলেন, তিনি যদি ১০০ টন আমদানিকৃত চাল খালাস করেন, তাহলে তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে শুল্ক হিসেবে ৮ লাখ টাকা দিতে হবে। এছাড়া ব্যাংক ঋণের বোঝা তো আছেই। আমদানিকৃত চাল খালাস নিলেই তাকে এসব হিসাব গুনতে হবে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লোকসান দিতে হবে। এ কারণেই ধীর গতিতে আমদানিকৃত চাল খালাস নিচ্ছেন বলে জানালেন তিনি।
এদিকে ভারতীয় চালবোঝাই ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাঁচ থেকে ১০ দিন ধরে তারা এই বন্দরে চাল নিয়ে এসেছে। বন্দরের ভেতরে শত শত চালের ট্রাক লোড অবস্থায় অবস্থান করছে। চাল আমদানির পর থেকে আমদানিকারকরা তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করছেন না। তারা তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের জন্যও বন্দর কর্তৃপক্ষ গেটের বাহিরে বের হতে দিচ্ছে না।
ভারতীয় ট্রাকচালক রতন রায় বলেন, ‘আমি ১০ দিন আগে চাল নিয়ে এসেছি। চালের পার্টির কোনো খোঁজ-খবর নেই।’ সুভাস বর্মণ নামে আরেক ট্রাকচালক বলেন, ‘আমি পাঁচ দিন হলো এসেছি আর কতদিন থাকতে হবে জানি না’।
