বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে বিদ্যুতের মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২১, ২১:২৩

বিদ্যুত্ খাতে নতুন মাস্টারপ্ল্যান জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাবে না নিয়ে বাস্তব চাহিদার আলোকে নির্ধারণ করার সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। বর্তমানে বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর ‘ওভার ক্যাপাসিটির’ কারণে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে। নগরায়ণ এবং শিল্পায়নের মাঠ পর্যায়ে তথ্যের ভিত্তিতে নতুন মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে ৫ বছর মেয়াদে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত বিদ্যুত্ খাতের মাস্টারপ্ল্যান ও ভবিষ্যত্ চাহিদা নির্ধারণে চ্যালেঞ্জ বিষয়ে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংলাপে এ সুপারিশ করা হয়। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সংলাপে অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নাউকি ইতো, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, শ্রেডার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম, অধ্যাপক ইজাজ হোসেন, অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ প্রমুখ। মূল উপস্থাপনা তুলে ধরে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নতুন বিদ্যুত্ খাতের মাস্টারপ্ল্যান করার পরিকল্পনা গ্রহণকে সাধুবাদ জানাই। এতে জাইকা সহায়তা করছে। তবে জিরো কার্বন ইস্যুতে কী ধরনের শর্ত রাখা হচ্ছে  সেটি আমরা জানতে চাই। দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনার চেয়ে এখন স্বল্পমেয়াদে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। পাঁচ বছর পরিকল্পনা করা যায়। তাছাড়া বিদ্যুত্ খাতে এক্সেস ক্যাপাসিটি বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে সরকারের দায়-দেনা বেড়ে যাচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র থেকে সরে এসে সৌর বিদ্যুত্ উত্পাদন বলা সহজ কিন্তু করা কঠিন। কারণ ৬০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রর জায়গায় মাত্র ২৫ মেগাওয়াট সোলার করা সম্ভব। টেকনিক্যাল সমস্যাও রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা বলা হচ্ছে কিন্তু এর সমপরিমাণ অর্থ লেগে যাবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রিড, নেটওয়ার্ক সংযোগ স্থাপনে। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, নতুন মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে, ২০১৬ সালেও হয়েছে, সেখানেও জাইকা সম্পৃক্ত ছিল। অথচ বাংলাদেশে কোনো বিশেষজ্ঞের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। জাইকার কর্মকাণ্ড জাপানের কয়েকটি বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তারা দেশের বিদ্যুত্ ব্যবস্থা বিদেশি তহবিলভিত্তিক, ব্যবসায়ীভিত্তিক, কয়লাভিত্তিক করার মহাপরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি বলেন, ওভার ক্যাপাসিটির কারণে গতবছর বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্রগুলোকে ৯ হাজার কোটি টাকা বসিয়ে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাস্তবতার ভিত্তিতে চাহিদা নির্ধারণ করা হয়নি। সারা বিশ্বে যখন কয়লা ও পারমাণবিক বিদ্যুত্ থেকে সরে আসছে তখন বাংলাদেশ এগুনো শুরু করছে।

জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাউকি বলেন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশে জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ। জাইকা এক্ষেত্রে মহাপরিকল্পনায় সহায়তা করছে। ভিশন ২০৪১-এর জন্য পাওয়ার পলিসি, মাস্টারপ্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ। পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আমরা সর্বাত্মক জোর দিচ্ছি তবে শুধু পরিকল্পনায় হলেই হবে না, বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে। অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাস্টারপ্ল্যান করতে গেলে চাহিদার প্রক্ষেপণ সঠিকভাবে করতে হবে। এটা করতে হলে প্রান্তিক পর্যায়ের তথ্য বিবেচনায় নিতে হবে। শুধু জিডিপির হিসাবে নিলে হবে না। পরিকল্পনা প্রণয়নে সামাজিক বিজ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিদেশিরা পরিকল্পনায় সহায়তা করবেন, তবে আমাদের দেশেও নিজস্ব বিশেষজ্ঞ রয়েছেন তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।