করোনা সংক্রমণ বাড়ছে

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২১, ২১:৩৪

আবারও করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কতটা জরুরি সে সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো

বেশ কয়েক মাস ধরে করোনার সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলেও মার্চের প্রথম সপ্তাহের পর থেকেই তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চালিয়ে যেতে বললেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ স্পষ্টতই অবহেলার পরিচয় দিয়ে আসছে। টিকা আসার পর মানুষের এই প্রবণতা আরও চরম আকার ধারণ করেছে। মূলত মাস্ক ব্যবহারসহ নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে ইচ্ছেকৃত অবহেলার কারণেই করোনার সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা আবার বাড়ছে। নিজের ও অন্যদের জীবনের সুস্থতার বৃহত্তর স্বার্থে ঘরে-বাইরে সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। 

মোহাম্মদ ফয়সাল

পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম

দেশে শীতকালে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের তীব্র আশঙ্কা থাকলেও সৌভাগ্যক্রমে ডিসেম্বর থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সংক্রমণের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। কিন্তু এরপরই শনাক্তের হার দুই অঙ্ক ছুঁয়ে ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর হারও বেড়ে চলেছে। টিকা নেওয়ার পরও অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন। মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্বের মতো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি অনুরসরণ না করেই অধিকাংশ মানুষ স্বাভাবিক চলাফেরা ও কাজকর্ম করছেন। টিকা গ্রহণের পর এটা আরো বেড়েছে। করোনার যে কোনো ধরনের সংক্রমণ মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে সর্বোচ্চ কঠোরতা কাম্য।

আবু ফারুক

সদর, বান্দরবান

গত কয়েক সপ্তাহ থেকে দেশে ফের কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থতার তীব্রতায় হাসপাতালস্থ হবার পরিসংখ্যানও ক্রমবর্ধমান। কোভিড-১৯-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকার মানসে সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান, সময়ে সময়ে সাবান ও পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার, নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, সামাজিক ভিড়-ভাট্টা ও জটলা-জমায়েত এড়িয়ে চলাসহ জনস্বার্থে অন্যান্য নিরাপত্তাসূচক স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন আমাদের নাগরিক দায়িত্বের অপরিহার্য অংশবিশেষ।

ওয়ারেছ আলী খান

সদর, নরসিংদী

করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার প্রবণতা, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা। করোনা প্রতিরোধে সবার আগে প্রয়োজন মাস্কের ব্যবহার সুনিশ্চিত করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা। অনেকে করোনার ভ্যাকসিন নেওয়ার পর নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না। করোনার ভ্যাকসিন ডোজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কেউই করোনার ঝুঁকি থেকে মুক্ত নন। করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। 

ফারজানা বিনতে মুরাদ ঈরা

ঝিকরগাছা, যশোর

দেশে যখন গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে ঠিক সেই সময় প্রায় কমে আসা অবস্থা থেকে হঠাত্ করে করোনা শনাক্তের হার বেড়ে যাওয়াটা উদ্বেগের বিষয়। করোনা আক্রান্তের হার কমে আসার পেছনে জনসাধারণের মাস্ক ব্যবহার, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা গুরত্বপূর্ণ  ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জনসাধারণের মধ্যে মাস্ক ব্যবহার, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে যেমন শৈথিল্যভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে, তেমনি সরকারের পক্ষ থেকেও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এগুলো পরিপালনে বাধ্য করার ক্ষেত্রেও চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এগুলো করোনা সংক্রমণ বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে। যত দিন না সব জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা যাচ্ছে এবং টিকার শতভাগ কার্যকারিতার নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে, তত দিন মাস্ক ব্যবহার, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

মনিরুল হক রনি

সাভার, ঢাকা

করোনা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রয়োজন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। গণপরিবহন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা, নো মাস্ক-নো সার্ভিস সর্বত্র ব্যবহার, তিন ফিট সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ইত্যাদি মেনে চলতে হবে।

বজলুল করিম

আজিমপুর, ঢাকা

দেশে করোনা সংক্রমণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। স্বাস্থ্যবিধি পালনে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

সুলতানা জামান

মানিকনগর, ঢাকা

আবারও করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। রাস্তাঘাট/হাটবাজার/যানবাহনে কোনো স্বাস্থবিধি মানা হচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকার কোনো আইনি ব্যবস্থাও নিচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বিদেশ থেকে আসা লোকজন অবাধে দেশে প্রবেশ করছে। করোনা সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে

মো. আনিসুর রহমান

জাহানাবাদ, খুলনা

করোনা সংক্রমণের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হওয়া। করোনার মোকাবিলায় মনোবল অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। এর সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

মাখরাজ খান

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমে এলেও সম্প্রতি তা আবার বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় করোনা বাড়ছে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী

গত বেশ কয়েক দিনে আবার বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণ । এর মূল কারণ স্বাস্থবিধি না মানা ও দূরত্ব বজায় না রেখে চলাফেরা করা। প্রত্যেকটি মানুষের সচেতন হওয়া একান্ত জরুরি।

মো. শহীদুল ইসলাম (রয়েল)

বগুড়া

করোনার প্রাদুর্ভাব আবারও বাড়তে শুরু করেছে। যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা একান্ত জরুরি।

প্রহরী মনিরুজ্জামান

ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

আবারও করোনার সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। বিদেশ থেকে আগতদের করোনা স্বাস্থ্যবিধি না মানার জন্য সংক্রমণ বেড়েছে। মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে না চলাও এর অন্যতম কারণ। তাই এ বিষয়ে সচেতন না হলে আমাদেরকে বড় খেসারত দিতে হবে।

রাসেল আহমেদ

মুগদা, ঢাকা

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও অসতর্কতার কারণে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। তাই এখনই সচেতন হওয়ার দরকার।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা

করোনা ভাইরাস তার রূপ পরিবর্তন করে নতুনভাবে মানুষকে সংক্রমিত করছে। করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রতিটি মানুষকে আবশ্যই মাস্ক ব্যবহার এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। পাশাপাশি গণজমায়েত এড়িয়ে চলতে হবে। সাবান পানি দিয়ে হাত বারবার ধৌত করতে হবে অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে, যত্রতত্র নাকেমুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং গণপরিবহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। তাছাড়া সরকার নির্দেশিত করোনার টিকা সবারই গ্রহণ করা উচিত। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই।

কামরুজ্জামান

শ্রীপুর, গাজীপুর

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে ব্যক্তি সচেতনতা। তারপরে আমাদের গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারে।

মো. শরীফ উদ্দিন

আশুগঞ্জ, বি-বাড়িয়া

দেশে আবারও করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি না মানা। শুধু সরকারকে দেষারোপ নয়, নিজেদেরকেও যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা একান্ত জরুরি।

অ্যাড. এস কে মো. রমিজ উদ্দিন

মিরপুর, ঢাকা

করোনা সংক্রমণ বাড়ার মূল কারণ হচ্ছে জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা। সরকার বারবার বলা সত্ত্বেও জনগণ সেটাকে তোয়াক্কা করছে না। তাই আসুন সবাই করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি।

অ্যাড. মেজবাইউদ্দিন সেলিম

ইব্রাহিমপুর, ঢাকা

টিকা দেওয়ার পর অনেকের মনে ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, করোনার ঝুঁকি কমছে, তাই আর স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি না মানলেও চলবে। করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মাস্ক ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও মানছেন না বেশির ভাগ মানুষ। রাস্তাঘাট, বাজার, শপিং মলে খুব কম মানুষ মাস্ক ব্যবহার করেন।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর

করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের হার হঠাত্ করে বৃদ্ধি পাওয়া স্বাস্থ্যবিধি না মানারই খেসারত। করোনা সর্তকবার্তা না মানলে জেল-জরিমানা করা এবং সারা দেশে দ্রুত বাস্তবায়ন করা অতাবশ্যক।

মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ

সরদারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ

দেশে আবারও করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। এত সর্তকর্তা ও প্রচার-প্রচারণা সত্ত্বেও তেমন কোনো কাজ হয়নি। তাই এখনই প্রয়োজন দেশব্যাপী সবাকেই ভ্যাকসিন গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা।

আলহাজ্ব মো. হাফিজুল ইসলাম

রাজশাহী

আবার করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। আতঙ্কিত হচ্ছে দেশবাসী। অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে না। মাস্ক পরলেও ঠিকমত ব্যবহার করছে না। এসব বিষয়ে সবাইকে সর্তক হতে হবে।

মো. মামুন

বংশাল, ঢাকা

অদৃশ্য শত্রু করোনা পরিস্থিতি বেশ কয়েকমাস খুব একটা উদ্বেগের না হলেও গত কয়েকদিনে সংক্রমণ হারের ঊর্ধ্বগতি নিশ্চিতই নাজুক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবার টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার পরও বেশ কিছু মানুষের করোনায় সংক্রমিত হওয়ার খবরও অপ্রত্যাশিত। স্বাস্থ্যবিধি পালনে আমাদের অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ এফ এম সালাহউদ্দীন

বান্দরবান

করোনার জন্য সাবধানতা অবলম্বন করে চললে তা সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

সালেহা আফরিন বেবী

শিবগঞ্জ, সিলেট

করোনা ভাইরাস থেকে বাংলাদেশ এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। মুষ্টিমেয় কিছু লোক ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তারা নানা অজুহাতে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এই মুহূর্তে সচেতনতার পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্বের কোনো বিকল্প নেই। জীবনের মূল্য যেমন অসীম, তেমনি জীবন বাঁচাতে জীবিকাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই সংকটময় মুহূর্তে জীবন যার, তা বাঁচানো ও ঝুঁকিমুক্ত করার দায়িত্বও তার।

মো. জিল্লুর রহমান

ঢাকা