করোনা সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। গত এক বছর ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছেলেমেয়েদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়। কাজেই করোনা সংক্রমণ যে কোনো মূল্যে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সারা দেশে প্রতিটি ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে দ্রুত ’করোনা প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা যেতে পারে। জ্বর, সর্দি, কাশিসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে কেউ আক্রান্ত হলে, তার চিকিত্সার ব্যবস্থাসহ ঐ পরিবারের সদস্যদের অন্তত পনেরো দিন বাড়ির বাইরে আসা-যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে যাতে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পরিবারের সদস্যরা যাতে বাড়ির বাইরে না যান, সেটি নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্ত পরিবারকে দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিষয়ে সহায়তা করতে হবে। সব রকম জনসমাগম ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করার বিকল্প নেই। টিকা কার্যক্রম আরো সহজ ও সম্প্রসারণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষের টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে করোনা নিয়ন্ত্রণে যে সব নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, মাঠ পর্যায়ে সেগুলো বাস্তবায়নে তেমন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। এ ব্যাপারেও সরকারকে কঠোর হতে হবে। বিদেশ থেকে যারা আসছে, তাদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করতে হবে। অন্তত পনেরো দিনের জন্য কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে অবশ্যই করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। আশা করি, সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
বিপ্লব বিশ্বাস
গোয়ালচামট, ফরিদপুর
