জোর করে ভোট নিতে চাইলে নৌকা মার্কার লোকজনই পারবে

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২১, ২২:৫৪

কেউ ভোট কেটে নিতে পারবে না। নিতে চাইলে নৌকা মার্কা-ই ভোট কেটে নিতে পারবে। পুলিশ সরকারি বাহিনী আর সরকার এখন নৌকার, সরকার শেখ হাসিনার। কিন্তু সেটাও হতে দিব না। জনগণ ভোট দিয়ে নৌকাকে জয়ী করবে। আপনাদের দোয়াতেই এটি সম্ভব। কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহ আলমের এমন একটি বক্তব্য নিয়ে নেট দুনিয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার একটি উঠান বৈঠকের ঐ বক্তব্যের কিয়দাংশ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় তোলপাড় চলছে পুরো কক্সবাজার জুড়ে।

গত ১৬ মার্চ রাতে হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাতির ঘোনা এলাকার একটি উঠান বৈঠকে দেওয়া সেই ভিডিও বক্তব্যে ৩ নম্বর হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি শাহ আলমকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলতে শোনা যায়, ভোট হঁন জাগাত লইত নদিওম। লইলে হঁনে লই পারিবো? আঁই লইপাইজ্জুমদে। কিয়ল্লা লইপাইজ্জুম? সরকার হাঁর? শেখ হাসিনার সরকার, নৌকা মার্কার সরকার। ভোট লইপাইল্ল্যে, জোর গরি পাইল্যে নৌকা মার্কার মাইনষ্যে লই পারিব দে। নাকি চেদের বেদের চেয়ার মার্কা, গলইস মার্কার মাইনষ্যে লইপারিবদে? দেশ ইয়ান, সরকারি গুন্ডা ওন হার? যোন পুলিশ ওঁন সরকারি গুন্ডা। ওঁন হার? ওঁন নৌকা মার্কার নঁনে? তই ভোট লইলে নৌকা মার্কার মাইনষ্যে বাইজ্জাই বাইজ্জাই লইবদে? (ভোট কোন জায়গায় ছিড়ে নিতে দেওয়া হবে না। নিলে কে নিতে পারবে? আমি পারবো। কি জন্য পারবো? সরকার কার? শেখ হাসিনার সরকার, নৌকা মার্কার সরকার। ভোট নিতে পারলে, জোর করতে পারলে নৌকা মার্কার লোকজনে পারবে। নাকি চেয়ার মার্কা, গ্লাস মার্কার মানুষ পারবে? দেশটা এবং সরকারি বাহিনী পুলিশ সরকারের। এরা নৌকা মার্কার না? ভোট নিতে চাইলে এরা পিটিয়ে নিতে পারে)।

পূর্বের বক্তব্যের সঙ্গে লাগিয়ে দেওয়া একই বৈঠকে আরেকটি বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ইঁয়া আঁর ভাই যিবা ঢাকা আসি্সল ইবা এহন ঢাকা নাই। ইবা এহন ওয়াশিংটন। ইবা এহন বিশ্ব ব্যাংককর বাংলাদেশ-ভারত-ভুটান-নেপাল-শ্রীলঙ্কা ইনর এ পাঁচ দেশর প্রতিনিধিত্ব গরের মানুষ ইঁবা। আঁর ভাই যিয়ান সেটাপ গরি গিয়ে এদেশত, যিয়ান ক্ষমতার স্তর তৈরি গরি গিয়ে-বাংলাদেশত ২৯ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপরে যিবায়ে মাস্টরি গরি গিয়ে পাঁচ বছর, ইয়বার সৈনিক অল, সারিত অল, এদেশত থরে থরে থরে বুআঁই দিয়া। আরো ১০ বছর ইবার সারিত অল এদেশত আছে। সুতরাং আর ক্ষমতা গিয়ে হইয়েদে ইতারা বোকার স্বর্গে বাস গরেদদে। আঁর ক্ষমতা আছে, সামনেঅ থাইবো, অঁনারা শুধু দোয়া গরিবান দে। (আমার ভাই যিনি ঢাকায় ছিলেন তিনি এখন ওয়াশিংটন। সেখানে বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশ-ভারত-ভুটান-নেপাল-শ্রীলঙ্কা এ পাঁচ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ২৯ লাখ সরকারি কর্মকর্তার বস্ ছিলেন। তার সহকর্মীরা স্তরে স্তরে দায়িত্বপালন করছেন। ওনার অনুগতরা আরো ১০ বছর দেশ পরিচালনায় থাকবে। সুতরাং আমার ক্ষমতা যারা কমে গেছে বলে প্রচার করছে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমার ক্ষমতা আছে, সামনেও থাকবে। আপনারা শুধু আমার জন্য দোয়া করবেন)।  প্রচার পাওয়া এসব বক্তব্য নিয়ে এখন নানা জনে নানা মন্তব্য করছেন। তবে কেউ কেউ দলীয় লোকজনকে অনুপ্রাণিত করতে ঘরোয়া বৈঠকে এমন বক্তব্য দিতেই পারেন বলে মন্তব্য করেছেন। সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।