বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিলেন চীনা কর্মকর্তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে গণমাধ্যমের সামনেই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছে দুই পক্ষ। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
এদিন চীনা কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধ অন্য দেশগুলোকে চীনকে আক্রমণ করার প্ররোচণা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। আর মার্কিন প্রশাসনের দাবি, চীনারা ক্ষমতাপ্রদর্শনের উদ্দেশ্য নিয়েই বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন।
সিএনএন জানায়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান উপস্থিত। অন্যদিকে, চীনের পক্ষে ছিলেন দেশটির সর্বজ্যেষ্ঠ পররাষ্ট্র কর্মকর্তা ইয়াং জিয়েচি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্র্রী ওয়াং ই।
বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্লিনকেন বলেন, জিনজিয়াং, হংকং, তাইওয়ান ইস্যুসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক শত্রুতা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রশাসন আলোচনা করতে পারে। চীনের প্রত্যেকটি কাজ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে ইয়াং জিয়েচি উল্টো ওয়াশিংটনকেই সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্য দেশগুলোকে চাপে রাখার দায়ে অভিযুক্ত করেন।
তিনি বলেন, এটি (যুক্তরাষ্ট্র) স্বাভাবিক বাণিজ্য কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে এবং কিছু দেশকে চীন আক্রমণে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তথাকথিত জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাগুলো ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার পরিস্থিতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। সেখানে কৃষ্ণাঙ্গদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে।
এর জবাবে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান বলেন, চীনের সঙ্গে কোনো বিরোধে জড়াতে চায় না ওয়াশিংটন। তবে তারা সবসময় মার্কিন জনগণ ও তাদের মিত্রদের পাশে দাঁড়াবেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সামনেই টানা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে দুই পক্ষের এমন উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়।
ইত্তেফাক/টিআর
