ক্লাসের বা একাডেমিক বই পড়ার গতি কখনো কখনো ধীর হয়ে যায়; কারণ যা পড়ছি তার ওপর আরো বেশি মনোযোগ দিতে হয়, বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা করতে হয় এবং বিষয়বস্তু অনুধাবন করতে হয় । এ কারণেই একাডেমিক পড়াশোনায় ভালো করার জন্য বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক কৌশল ব্যবহার করা প্রয়োজন এ বিষয়ে আজকের এ আয়োজন।
‘আমি অনেক পড়ি কিন্তু রেজাল্ট ভালো হয় না’- এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। এমনই শোনা যায়- গল্পের বই পড়লে মনে থাকে কিন্তু ক্লাসের বই পড়লে পড়া এগোতে চায় না আবার পড়া মনেও থাকে না।’
আসলে ক্লাসের বা একাডেমিক বই পড়ার গতি একটু ধীর হয়ে যায় মাঝে মাঝে। কারণ যা পড়ছি তার ভেতর কী আছে বা কী বলতে চাচ্ছে তা বুঝতে হয়, ভবিষ্যতে প্রয়োগের জন্য আরো বেশি মনোযোগী হতে হয় পড়াতে। বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা করতে হয় এবং বিষয়বস্তু ভালোভাবে অনুধাবন করতে হয়। এ কারণেই একাডেমিক পড়াশোনায় ভালো করার জন্য বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক কৌশল ব্যবহার করা প্রয়োজন। এমনই একটি কৌশল হলো SQ3R। এটি বিশ্বে বহুল ব্যবহূত একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে পড়া সহজে বোঝা যায় ও তুলনামূলক কম সময়ে পড়া শেষ করা যায়। SQ3R-এর পূর্ণরূপ হলো: সার্ভে, কোশ্চেন, রিড, রিসাইট এবং রিভিউ (Survey, Question, Read, Recite এবং Review ) শিক্ষার্থীরা কৌশলটি আয়ত্ত করলে দ্রুত পড়া বুঝতে পারবে এবং পড়াশোনার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
সামগ্রিকভাবে দেখা
বই নিয়ে প্রথম থেকে পড়তে শুরু করলে পড়ার প্রতি এক ধরনের বিরক্তি চলে আসতে পারে। তাই পড়ার শুরুতে মনের মধ্যে বিষয়বস্তুর প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হয়। এই আগ্রহ তৈরির প্রথম ধাপ হচ্ছে বই বা অধ্যায়টিকে উল্টে পাল্টে দেখা। এ জন্য প্রথমে এর ছবি, অঙ্কন, গ্রাফ, টেবিল ও চার্টগুলো দেখুন; এগুলোর শিরোনাম এবং নিচের লেখাগুলো পড়ুন। এরপর সারমর্ম (দেওয়া থাকলে), অধ্যায়ের পেছন দিকের প্রশ্ন, সূচিপত্র একে একে চোখ বুলিয়ে নিন।
প্রশ্ন করা
এরপরের ধাপ হচ্ছে নিজেকে প্রশ্ন করা। এই প্রশ্নগুলো মনের মধ্যে তথ্য গ্রহণের চাহিদা তৈরি করে। ফলে সহজে পড়া যায়, পড়া বিরক্তিকর লাগে না। প্রশ্ন তৈরির জন্য আগের ধাপের অভিজ্ঞতা থেকে মনের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করুন। যেমন- ছবিটা এ রকম কেন? কী হয়েছে আসলে? দুটি তো দুই রকম আসল ব্যাপারটা কী? এ ছাড়া বিষয়বস্তুর বা অনুচ্ছেদের শিরোনামগুলো নিয়ে মনের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করুন। যেমন- এই প্রতিবেদনটি পড়ার সময় প্রশ্ন করা যায়, পড়ার সময় সার্ভে করার প্রয়োজন কী? পড়ার আগেই প্রশ্ন করতে হবে কেন? ইত্যাদি।
পড়া
এরপর প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার জন্য প্রথমবারের মতো পড়ুন। যতটা সম্ভব দ্রুততার সঙ্গে পড়ার চেষ্টা করুন। তবে কোনো একটি অংশ বোঝার জন্য কখনো কখনো কিছু ধীরে পড়া যেতে পারে। তবে দুই লাইন পড়ে আবার প্রথম থেকে পড়বেন না। প্রথমবারই পুরো পৃষ্ঠা বা অনুচ্ছেদটি পড়ে ফেলুন।
অনুধাবন
একটি পৃষ্ঠা বা অংশ প্রথমবার পড়ার পর থামুন এবং এখনই যা পড়লেন তা বলার চেষ্টা করুন। এরপর নিজের ভাষায় বিষয়টি বলার চেষ্টা করুন। নিজের ভাষায় বিষয়টি না বলতে পারলে ধরে নিতে হবে বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে। সে ক্ষেত্রে আবার পড়ুন।
পর্যালোচনা
ওপরের ধাপ অনুযায়ী যে অংশটি পড়তে চান, তা পড়া হয়ে গেলে অধ্যায়ের শেষের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে চেষ্টা করুন। এ ছাড়া পড়ার আগে যে প্রশ্নগুলো তৈরি করেছিলেন সেগুলোর উত্তর পেয়েছেন কি না দেখুন। প্রয়োজনে আবার পড়ে উত্তর খুঁজে বের করুন। সবশেষে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন ‘আমি কী শিখলাম?’ এরপর আরো ভালো করে মুখস্থ করার জন্য আরো কয়েকবার দেখে বা না দেখে পড়তে পারেন।
