এইচএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতি: ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২১, ২০:০১

মো. কবির হোসেন (সুজন)

প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ

নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, ঢাকা

 

প্রিয় এইচএসসি পরীক্ষার্থীবৃন্দ, অনুশীলন বিভাগে তোমাদের স্বাগতম। এই বৈশ্বিক মহামারিতে তোমরা তোমাদের পড়ালেখা চালিয়ে যাও। আশা করি, অচিরেই পরিস্থিতি ভালো হবে। ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের দ্বিতীয়পত্রে প্রথম  অধ্যায় থেকে তোমাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ  অনুধাবনমূলক প্রশ্ন এবং তার উত্তর উপস্থাপন করা হলো। অনুধাবন মূলক প্রশ্নসমূহ তোমরা চর্চা করবে। তবে প্রথমেই পুরো অধ্যায়টি মূলবই থেকে পড়ে নেবে। তাহলে শুধু অনুধাবনমূলক নয় জ্ঞানস্তরের প্রশ্নের উত্তরও সহজে দিতে পারবে।

 

ব্যবস্থাপনা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে নিয়োজিত বিভিন্ন উপায় উপকরণ  যথা; মানুষ, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, অর্থ ও বাজার পদ্ধতিকে যথাযথভাবে কাজে  লাগানোর  জন্য সুষ্ঠু পরিচালনাকে ব্যবস্থাপনা বলা  হয়।

অন্যের দ্বারা কাজ করিয়ে নেওয়াকে ব্যবস্থাপনা বলা হলেও এই সব কাজ প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য হতে  হয়। আর এই সব উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য মানবীয় ও অমানবীয় উপকরণসমূহ কাজে লাগাতে হয়। মানবীয় উপকরণ বলতে মানুষ বা জনশক্তিতে বোঝায় আর অমানবীয় বা বস্তুগত উপকরণ বলতে যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, অর্থ, বাজার এবং পদ্ধতিকে বোঝায়। তাই উপকরণাদির কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে পরিকল্পনা হতে শুরু করে নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত সকল  কার্যকে ব্যবস্থাপনা বলা হয়।

 

ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ব্যবস্থাপনার কাজ  যথা পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, প্রেষণা, সমন্বয় সাধন ও নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কাজগুলো চক্রাকারে  আবর্তিত হওয়াকে ব্যবস্থাপনা চক্র বলা হয়।

ব্যবস্থাপনা ধারাবাহিক ও পরস্পর নির্ভরশীল কতিপয় কাজের সমষ্টি। এই কাজগুলো একটির পর একটি চক্রাকারে আবর্তিত হয় বলে এগুলোকে ব্যবস্থাপনা চক্র বলা হয়। অর্থাত্ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে যে কাজ শুরু হয় এই পরিকল্পনার আলোকে কাজগুলোকে সংগঠিত করা হয় এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিচ্যুতি বের করে পুনরায় পরিকল্পনায় নিয়ে যাওয়া হয় এই জন্য একে চক্র বলা হয় আর কাজগুলো ব্যবস্থাপনার বলে একে ব্যবস্থাপনা চক্র বলা হয়।

 ব্যবস্থাপনার উপকরণ বলতে কী বোঝায়?

 

উত্তর : ব্যবস্থাপনার কার্য সম্পাদনে কাজে লাগে এমন বস্তু বা সম্পদকেই ব্যবস্থাপনার উপকরণ বলা হয়।

ব্যবস্থাপনা এই সব উপকরণ কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে থাকে। এই সব উপকরণ হলো মানুষ, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, অথর্, বাজার ও পদ্ধতি। এই ছয়টি উপকরণকে ব্যবস্থাপনার উপকরণ বলা হয়। যাকে সংক্ষেপে 6M বলা হয়। তাই ব্যবস্থাপনা তার কার্য সম্পাদনে যে ছয়টি উপকরণ ব্যবহার করে তাদেরকে একত্রে ব্যবস্থাপনার উপকরণ বলা হয়।

উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর:  প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহী বা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে যে ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠে তাকে উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বলা হয়।

কিছু কিছু নির্বাহী প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য, নীতি, দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য, কৌশল বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। তবে এরা পরিচালকমণ্ডলী, পরিচালকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কোম্পানি সচিব এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে সাধারণ ব্যবস্থাপকও হয়ে থাকে। এর সকলে উচ্চস্তরের কার্যসমূহ প্রণয়নে সম্পৃক্ত থাকে বলে এরা উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপক।

মধ্যপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের প্রণীত নীতি, কৌশল ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিম্নপর্যায়ের ব্যবস্থাপকগণকে কাজে        লাগাতে যে স্তরের ব্যবস্থাপনা কাজ করে তাদেরকে মধ্যস্তরের ব্যবস্থাপনা বলা হয়।

 

এরূপ ব্যবস্থাপনা মূলত উচ্চ ও নিম্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার মধ্যে সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করে। এরা  আবার উচ্চ পর্যাযের প্রণীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সহায়ক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে থাকেন। তাই যে স্তর প্রণীত পরিকল্পনার আলোকে নিম্নস্তরের ব্যবস্থাপকদের কাজে লাগিয়ে উচ্চস্তরের প্রণীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন  করে থাকেন তাকে মধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বলা হয়।