কুমিল্লা সদর দক্ষিণে হিমাগার নেই
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সংবাদদাতা
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় হিমাগার না থাকায় কৃষকরা তাদের উত্পাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, উন্নত মানের বীজ ব্যবহার এবং আধুনিক পদ্ধতিতে সেচের ফলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণে কৃষিপণ্যের উত্পাদন বাড়ছে। কিন্তু হিমাগারের অভাবে কৃষক উত্পাদিত পচনশীল কৃষিপণ্য কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তারা হতাশ হয়ে পড়ছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের ২০০৮ সালের জরিপ অনুযায়ী কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৯ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর, চৌয়ারা, বারপাড়া, গলিয়ারা উত্তর, গলিয়ারা দক্ষিণ, জোড়কানন পূর্ব এবং জোড়কানন পশ্চিম ইউনিয়নের ৩২ হাজার কৃষক পরিবার রয়েছেন। তারা আলু, মরিচ, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা, গাজর, টম্যাটো, বেগুন, ঢ্যাঁড়সসহ নানা মৌসুমি সবজি আবাদ করেন। যখন সব কৃষকের উত্পাদিত কৃষিপণ্য একসঙ্গে বাজারে আসে তখনই দাম কমে যায়। কৃষকরা উত্পাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পেলেও হিমাগার না থাকায় সেগুলো কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। উপজেলার শিবপুর গ্রামের কৃষক আবদুস সাত্তার জানান, উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় অবস্থিত একমাত্র হিমাগারটি প্রায় তিন বছর যাবত্ বন্ধ। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাবলু বলেন, কৃষিপণ্য রক্ষণাবেক্ষণে কুমিল্লা সদর উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে একটি বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন মজুমদার বলেন, হিমাগারের অভাবে সবজির মূল্য কম হলেও কৃষকরা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কুমিল্লা জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা বাজার কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকায় বিশেষায়িত একটি সবজির হিমাগার স্থাপনের জন্য তিনটি স্থান প্রস্তাব করা হয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ প্রস্তাবিত স্থানগুলো পরিদর্শন করেছেন।
