করোনার টিকা কিনতে বাংলাদেশকে আরো ৫০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অতিরিক্ত এই অর্থায়ন গতকাল শুক্রবার অনুমোদন করা হয়। অতিরিক্ত এই অর্থায়নের ফলে প্রকল্পটিতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াল ৬০ কোটি ডলার (৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা)। এর বাইরে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) প্রকল্পটিতে ১০ কোটি ডলার (৮৫০ কোটি টাকা) অর্থায়ন করছে। বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে প্রাপ্ত এই ঋণ পাঁচ বছর রেয়াতকালসহ ৩০ বছর মেয়াদে শোধ করতে হবে। বিশ্বব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে টিকার জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় প্রধম ধাপে যে তিনটি দেশকে সহায়তা দেওয়া হয় বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকাদানের আওতায় আনতে সরকারের যে প্রাথমিক অগ্রাধিকার পরিকল্পনা রয়েছে তার অধীনে ৩১ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে সহায়তা করবে এ প্রকল্পটি। এটি নিরাপদ ও কার্যকরী টিকা ক্রয়, সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বিতরণে সরকারকে সহায়তা করবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টিমবন উল্লেখ করেন, ‘জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে বাংলাদেশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। এই অর্থায়ন জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ জনগণের জন্য অবিলম্বে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
এই অর্থায়ন দেশের জনগণের প্রায় ২০ শতাংশের জন্য গ্লোবাল একসেস ফ্যাসিলিটি (কোভ্যক্স)-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত টিকা দেওয়ার ব্যয় বহন করা হবে। বাকি ১১ শতাংশ মানুষের জন্য, এই অর্থায়ন, উত্পাদকের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় অথবা কোভ্যাক্সের মাধ্যমে পাওয়া টিকার ব্যয়ভার ও টিকা প্রদানের ব্যয় বহন করবে। এর বাইরে সরকারের নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে দেশের ৯ শতাংশ লোকের জন্য টিকার ব্যয়ভার বহন করবে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশনস্ অফিসার ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার ইফফাত্ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি ব্যবস্থাপনায় সুদীর্ঘ ও সফল অভিজ্ঞতার আলোকে এই অর্থায়ন কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া প্রকল্পটি টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং জেলা পর্যায়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র সম্প্রসারণে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
গতকালের বোর্ড সভায় নেপালকে সাড়ে ৭ কোটি ডলার (প্রায় ৬৩৮ কোটি টাকা) ও আফগানিস্তানকে ৬ কোটি ডলার (৫১০ কোটি টাকা) সহায়তা অনুমোদন করা হয়। সবমিলিয়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার সহায়তা করছে বিশ্বব্যাংক।
