ভারতে করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনক, ব্রিটেনে মৃত্যুহার ৮ শতাংশে

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২১, ০০:১৯

দেশে দেশে আবারও বাড়ছে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ। করোনার টিকা আলো দেখালেও নতুন নতুন ভ্যারিয়্যান্ট, স্ট্রেইনের কারণে পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ভারতে আবারও হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ। শুক্রবার প্রকাশ করা দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ হাজার ৭২৬ জন। যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় চার হাজার বেশি। এছাড়া কমছে দৈনিক সুস্থতার হার।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রে দ্বিতীয় দফায় দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা সংক্রমণ। ঐ রাজ্যে একদিনেই আক্রান্ত রেকর্ড ২৫ হাজার ৮৩৩ জন। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ব্রিটেন, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার করোনা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত চার শর বেশি ভারতীয়। ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রিটেনের করোনা প্রজাতি আগের থেকে অনেক বেশি সংক্রামক।

ইউরোপের কয়েকটি দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। ফ্রান্সে গতকাল একদিনেই আক্রান্ত ৩৫ হাজারের বেশি। করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় রাজধানী প্যারিসে এক মাসের লকডাউন জারি করা হয়েছে। 

ব্রিটেনে সংক্রমণের এই দফায় মৃত্যুহার ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মৃত্যুহার ২০২১ সালের আশঙ্কার চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ইংল্যান্ডে মৃত্যুহার ৮ শতাংশ, স্কটল্যান্ডে ৬ শতাংশ, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ৫ শতাংশ এবং ওয়েলসে ৪ শতাংশ।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত যেসব দেশ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া স্থগিত করেছিল, সেগুলোর বেশির ভাগই আবার ঐ টিকা দেওয়া শুরু করছে। ইইউ-র ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাকে ‘নিরাপদ এবং কার্যকর’ বলে আখ্যা দেওয়ার পর জোটের ঐসব দেশ এই টিকা দেওয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে এই টিকার সম্পর্ক থাকার আশঙ্কায় ইইউ’র ১৩টি দেশ এই টিকা দেওয়া স্থগিত করেছিল। এরপরেই ইউরোপীয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) বিষয়টি পর্যালোচনা করে। ওই পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, যে রক্ত জমাট বাঁধার উচ্চ ঝুঁকির সঙ্গে এই টিকার সম্পর্ক নেই। এখন জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেন বলছে যে, তারা এই টিকা দেওয়া আবার শুরু করবে। তবে কবে থেকে এই টিকা দেওয়া শুরু হবে, তা দেশগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।