শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ভুল বার্তা গিয়েছে :তাসকিন

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২১, ২০:৪৭

তাসকিন রহমান। প্রথম ছবিতেই সবার নজর কাড়েন। এরপর গণমাধ্যমে তার চোখের সৌন্দর্য নিয়েও চর্চা হয়। কিন্তু বিধির মন খারাপ বলেই সেই চোখেই অপারেশন করাতে হলো তাসকিনের। তবে এখন অনেকটাই সুস্থ তিনি। নিজের সেকেন্ড হোম অস্ট্রেলিয়ায় চিকিত্সা নিয়ে সেখানেই রয়েছেন। পরবর্তী কাজ ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বললেন তানভীর তারেক-এর সঙ্গে—

কেমন আছেন তাসকিন?

আমি এখন আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। চোখের একটা সফল অপারেশন শেষে এখন বিশ্রামে নিয়েছি। সবার দোয়া কাজে লেগেছে।

কিন্তু আপনার তো ব্রেনে অপারেশন হয়েছে বলেই জানি এবং অবস্থা খুবই গুরুতর এমনটাই শুনেছিলাম—

ভীষণ রকম ভুল শুনেছিলেন। এই ভুলটা আমিও দেখলাম। দেশের একটি পত্রিকা আমার ব্রেন এর অপারেশন লিখে মহা বিভ্রান্তিতে ফেলেছে। ঐ খবরটির পর আমার দূর-দূরান্তের আত্মীয়স্বজনকে বোঝাতে বোঝাতে আমার হয়রান হতে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে তারাও ভীষণ উদ্বিগ্ন ছিলেন। এদিকে আমার ছবির প্রযোজকরাও মহা টেনশনে! আমি মূলত বলেছিলাম চোখের একটি নার্ভে সমস্যা এবং চোখের নার্ভের সঙ্গে ব্রেনের সংযোগ থাকে। ব্যস! সেটাকেই ব্রেনের অপারেশন বানিয়ে ছেপে দিলো!

তাহলে তো অনেকেই ভুল বুঝে আছে—

অবশ্যই। দেখুন, শারীরিক অসুস্থতার উপরে তো কারো হাত নেই। আর আমার হাতে ৭টি ছবি। মানে ৭ জন প্রযোজকের টেনশন আমাকে নিয়ে। এটা তো বড় দায়িত্ব। এই ধরনের ভুল বার্তা তো খুব সংকটে ফেলে দেয়।

‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির অসম্পূর্ণ কাজগুলো তাহলে কীভাবে শেষ হলো?

‘মিশন এক্সট্রিম’ নিয়ে সমস্যা হয়নি। কারণ শুটিংয়ের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। আর কিছুদিন আগে এখানে (অস্ট্রেলিয়ায়) বাকি ডাবিংয়ের কাজ শেষ করেছি। এখন তো প্রযুক্তির যুগ, তাই সমস্যা হওয়ার কথা না।

তার মানে অস্ট্রেলিয়া থেকে আরো কিছু ছবির ডাবিংয়ের কাজ করছেন?

হ্যাঁ, এর ভেতরে আরো একটি ছবির ডাবিংয়ের কাজ শুরু করবো। কারণ একটি অপারেশনের পর ডাক্তার কোথাও মুভ করতে বারণ করেছেন। তাই এখনই হয়তো শুটিং শুরু করতে পারবো না। কিন্তু ডাবিং বা পরের ছবির স্ক্রিপ্ট বাছাইয়ের কাজগুলো করছি। বেশ কয়েকজনের সঙ্গে পরবর্তী ছবি নিয়েও মৌখিক আলাপ হয়েছে।

হঠাত্ অসুস্থতার কারণ নিয়েও অনেকে কৌতুহলী। এছাড়া যে ছবিগুলোর কাজ আটকে গেল সেগুলোর কী হবে?

না, আমি যেহেতু খুব অল্প সময়ের ভেতরেই কাজে ফিরতে পারবো, তাই প্রযোজকের সঙ্গে আমার সেই শিডিউলগুলো মিলিয়ে নিচ্ছি। আর এই অসুস্থতা মূলত নিজের প্রচণ্ড কাজের চাপে। নিজেকে আমি একদমই সময় দিইনি। এর পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে কফি খেতে হয়েছে, অন্যদিকে ঘুম হয়নি সময়মতো। সব মিলিয়ে এই সংকটটি তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন একেবারেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন? এটা কী ডাক্তারের পরামর্শে?

একদম তাই। কোনোরকম ডিভাইস ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেকারণে আমি সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।

আপনি তো অস্ট্রেলিয়ায় খুব আয়েশী, চড়া বেতনের কাজ করছিলেন। সেখান থেকে এই যে এত কষ্ট, শরীরের ওপরে প্রেশার দিয়ে কাজ করে আজ এ অবস্থা হলো। পরিবার থেকে স্ত্রী বা অন্যরা নিষেধ করছে না এখন যে, আর অভিনয় করার দরকার নেই!

হা হা হা। না, সেই সুযোগ দিচ্ছি না তাদের। আর আমি পূর্ণ বিশ্রাম নিয়ে সুস্থ হয়েই ফিরবো। আমি তো কাজের নেশায়, অভিনয়কে ভালোবেসে দেশে গিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। এত এত মানুষের ভালোবাসা আমাকে ব্যস্ত করে তুলেছে, সেই ভালোবাসার ঋণকে আমি অস্বীকার বা অবজ্ঞা করতে চাই না। তাই খুব জলদিই দেশে ফিরে নিজের অভিনয় ও নিজের ছন্দে ফিরবো, ইনশাল্লাহ।