পাঠকের প্রশ্ন

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২১, ২২:৩৫

গত ১৪ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত সম্পাদকীয় কলাম ‘বাংলাদেশে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি কোর্স’-এর লেখকের তথ্যানুসারে, বিএসসি ইন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি সম্পন্ন করা স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট একজন স্বাস্থ্য পেশাজীবী। এবং তিনি ব্যক্তির যোগাযোগ এবং খাদ্য গলাধঃকরণজনিত সমস্যা সমাধানে চিকিত্সা দিয়ে থাকেন। 

ঐ সম্পাদকীয় কলামে উল্লে­খ করা হয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিত্সা অনুষদভুক্ত পাঁচ বছর মেয়াদি বিএসসি ইন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি (এক বছরের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপসহ) কোর্স বাংলাদেশে চালু রয়েছে। কিন্তু পত্র-পত্রিকা মারফত প্রকাশিত যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজিকবিজ্ঞান অনুষদের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপির ওপর সান্ধ্যকালীন স্নাতকোত্তর কোর্স এবং চার বছর মেয়াদি একটি স্নাতক কোর্স চালু করা হয়েছে যথাক্রমে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে। সান্ধ্যকালীন স্নাতকোত্তর কোর্সে যে কোনো বিষয়ে স্নাতক করা ব্যক্তি ভর্তি হতে পারেন যেমন ইংরেজি, সমাজিকবিজ্ঞান, লিংগুইস্টিকস, নার্সিং, বিশেষ শিক্ষা, বায়োফার্মা, এমবিবিএস, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি ইত্যাদি। অন্যদিকে কলা, বাণিজ্য বিভাগ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীও স্নাতক কোর্সে ভর্তি হচ্ছে। যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগে তথাকথিত স্বাস্থ্য পেশাজীবী সৃষ্টির এই সান্ধ্যকালীন স্নাতকোত্তর কোর্স সম্পন্ন করতে একজন ব্যক্তির দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লেগে যায় এবং প্রতিবছর ৫০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়।

এ বিষয়গুলো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না; কারণ যে কোনো বিষয়ে স্নাতক করা ব্যক্তি সান্ধ্যকালীন কোর্স এবং কলা এবং বাণিজ্য বিভাগ থেকে আসা শিক্ষার্থী স্নাতক কোর্স করে সবাই নিজেকে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট হিসাবে দাবি করেন অর্থাত্ স্বাস্থ্য পেশাজীবী হিসাবে পরিচয় দিয়ে রোগীকে চিকিত্সা দেবেন এবং দিচ্ছেন—এটি কেন প্রতারণা নয়? অভিযোগ উঠেছে যে, হাতুড়ে বিশেষজ্ঞদের সার্টিফিকেট দিয়ে বৈধ করা এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ঠিক রাখতেই এই কোর্সগুলো চালু করা হয়েছে।

আগে থেকেই পরিচালিত হয়ে আসা চিকিত্সা অনুষদভুক্ত একটি কোর্স কিভাবে আবার একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজিকবিজ্ঞান অনুষদে চালু হয়? চিকিত্সা অনুষদ কর্তৃক পরিচালিত কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা অনুসরণ না করে,  ভর্তির ভিন্ন যোগ্যতা অনুসরণ করে কিভাবে সমাজিকবিজ্ঞান অনুষদ একই স্বাস্থ্য পেশাজীবী অর্থাত্ স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট তৈরি করতে পারে, এটি একেবারেই বোধগম্য নয়। এই কোর্সগুলো কি বিএসসি ইন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি কোর্সের মৌলিকত্ব নষ্ট করছে না? বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সমাজিকবিজ্ঞান অনুষদে পড়াশোনা করে একজন ব্যক্তি কীভাবে স্বাস্থ্য পেশাজীবী হন?

আবুল কাশেম শিহাব, চট্টগ্রাম