মূসক কমিয়ে এলপিজির দাম নির্ধারণ করছে বিইআরসি

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২১, ২৩:০৪

জ্বালানি পণ্য এলপিজির ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক-ভ্যাট) কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। খুচরা পর্যায়ে ৫ শতাংশ এবং বাণিজ্যিক পর্যায়ে ৩ শতাংশ মূসক ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ফলে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ মূসক কমে ৭ শতাংশে দাঁড়াবে।

বিশ্ববাজারে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশে এই পণ্যের মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়ার মধ্যে এই ভ্যাট কমানো হলো। বিদ্যুত্-জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) অনুরোধের পর করের হার কমিয়েছে এনবিআর। শিগিগরই নতুন মূসক হার সমন্বয় করে দেশে প্রথমবারের মতো এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করবে বিইআরসি।

বর্তমানে ১৫ শতাংশ ভ্যাটের মধ্যে ৫ শতাংশ খুচরা পর্যায়ে, ৫ শতাংশ উত্পাদন বা সরবরাহ পর্যায়ে এবং বাকি ৫ শতাংশ বাণিজ্যিক পর্যায়ে আরোপিত রয়েছে। এখন উত্পাদন বা সরবরাহ পর্যায়ে ৫ শতাংশ মূসক বাদ এবং বাণিজ্যিক পর্যায়ে ২ শতাংশ থাকবে। বাকি ৮ শতাংশ ছাড় পেল জনগণ। আগের মতোই এই ভ্যাট এলপিজির খুচরা দামের সঙ্গে যুক্ত করে তা আদায়ের বা পরিশোধের দায়িত্ব কোম্পানিগুলোর হাতেই থাকবে।

এ প্রসঙ্গে বিইআরসির এক সদস্য বলেন, এলপিজি খাতে মূল্যশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো এর মূল্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছে কমিশন। ইতিমধ্যে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রাহকেরা যে এলপি গ্যাস কেনে, তাতে বর্তমান ১৫ শতাংশের                 পরিবর্তে ৭ শতাংশ ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে এলপিজির আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের সঙ্গে দেশে এলপি গ্যাসের দাম ওঠানামা করবে।

এনবিআরের এক সদস্য জানান, এলপিজির দাম গ্রাহকের সাধ্য-সামর্থ্যের মধ্যে রাখার লক্ষ্যে এলপিজিতে ভ্যাট কমানোর সুপারিশ করেছিল বিইআরসি। সেই প্রেক্ষাপটে অর্ধেকের বেশি ভ্যাট কমানো হলো।

দেশে বর্তমানে বছরে ১০ লাখ টন এলপিজি ব্যবহূত হচ্ছে। এর মধ্যে সাড়ে ১৫ হাজার টন সরকারি কোম্পানি বাজারজাত করছে। বাকি প্রায় ৯ লাখ ৮৫ হাজার টন আমদানি করছে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ২৮টি বেসরকারি কোম্পানির মধ্যে ২০টি এলপিজি আমদানি করছে। এগুলোর বাইরে এলপি গ্যাস লিমিটেড একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এলপিজি বিপণন করছে। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বর্তমানে গড়ে ১ হাজার ১০০ টাকা। আর সাড়ে ১২ কেজির সরকারি এলপি সিলিন্ডারের দাম ৬০০ টাকা। ব্যবহূত এলপিজির ৮৪ শতাংশ যায় রান্নার কাজে। বাকি ১৬ শতাংশ পরিবহনের অটোগ্যাস, শিল্প ও বাণিজ্য খাতে ব্যবহার করা হয়।

দেশে এখন পর্যন্ত এলপিজির মূল্য নির্ধারণে রাষ্ট্রীয় কিংবা সরকারি নিয়ন্ত্রণ নেই। বেসরকারি এলপিজি অপারেটররা এ বাজারের পণ্যমূল্য নির্ধারণ-নিয়ন্ত্রণ করছে। এ নিয়ে ভোক্তারা অনেক বছর ধরে অভিযোগ করে আসছেন। বাজারে বিশৃঙ্খলা, একচেটিয়া ব্যবস্থা ও অন্যায্যতা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অভিযোগ ছিল। আইনে-নিয়মে থাকলেও এলপিজির বাজারমূল্য এত দিনেও নির্ধারণ করেনি বিইআরসি। এ নিয়ে আদালতে রিট আবেদন করে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংস্থাটির আবেদনের পর নানা ধাপ শেষে আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর এলপিজির দাম নির্ধারণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিইআরসি।  গত জানুয়ারিতে এ বিষয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিইআরসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, চলতি মার্চের শেষ সপ্তাহে বা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে নতুন দাম নির্ধারণ করে আদেশ জারি করবে সংস্থাটি।