কেক কাটা, কোরআনখানি, মিলাদ-মাহফিল, আলোচনা সভা, রক্তদান কর্মসূচি ও আলোকসজ্জাসহ নানা আয়োজনে দলের প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের জন্মদিন উদ্যাপন করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)।
এরশাদের জন্মদিনে গতকাল শনিবার সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাপার চিফ প্যাট্রন রওশন এরশাদের গুলশানের বাসায় মিলাদ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তর করার পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সংবিধান সংশোধন করে দেশে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। সরকার প্রধান যা চান তাই হচ্ছে, এটাকে গণতন্ত্র বলা চলে না। দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কবর দিয়েছে।
বিকালে এই মিলাদ মাহফিলে রওশন এরশাদও শরিক হন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, রাহ্গীর আলমাহী এরশাদ (সাদ এরশাদ) এমপি, ফখরুল ইমাম, সালমা ইসলাম, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, রওশন আরা মান্নান, এস এম ফয়সাল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, গোলাম মসীহ্, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
সন্ধ্যায় কাকরাইলে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৃথক আলোচনার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাপা, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি ও জাতীয় ছাত্র সমাজ। এসময় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির উদ্যোগে ৯২ পাউন্ডের কেক কাটেন জি এম কাদের। এখানে জি এম কাদের বলেন, দেশে বৈষম্যের রাজনীতি চলছে। মেধাবীরা আজ মূল্যায়িত হচ্ছে না। জিয়াউদ্দিন বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, বেলাল হোসেন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুরে জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, দেশে কোনো মানুষের নিরাপত্তা নেই। সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে হামলা কী সরকারের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উপহার? একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় সরকারের সমর্থন ছাড়া সংখ্যালঘুদের ওপর কেউ হামলা করতে পারে এটা সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে না।
এদিকে, এরশাদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে সন্ধ্যায় পৃথকভাবে আলোচনা সভা ও কেক কাটে ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্ট’। বারিধারায় প্রেসিডেন্ট পার্কে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে এরশাদপুত্র এরিক এরশাদ, এরিকের মা বিদিশা এরশাদ ও ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মো. মামুনুর রশিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
