মানুষ নয়, লাইকা নামের কুকুরটি ছিল মহাকাশ ভ্রমণকারী প্রথম জীব। অতিরিক্ত চাপ এবং তাপের কারণে ৩ নভেম্বর ১৯৫৭ তারিখে সোভিয়েত নভোযান স্পুতনিক-২ উেক্ষপণের ৭ ঘণ্টা পরে লাইকা মারা যায়। সেই থেকে লাইকা মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নক্ষত্র কুকুর।
বর্তমানে তোড়জোড় চলছে মঙ্গলগ্রহে যাত্রার। মানুষ স্বপ্ন দেখছে চলতি শতাব্দীর ত্রিশের দশকের মাঝামাঝি সেখানে স্থায়ী আবাস গড়ে তোলার। সে কারণেই আগেভাগে লাল গ্রহ মঙ্গলের নানা খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
গত বছর ৩০ জুলাই রওয়ানা করে নাগাড়ে ২০২ দিনে ৪৭ কোটি ১০ লাখ কিলোমিটার (প্রায় ২৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল) পথ পাড়ি দিয়ে এ বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি সেখানে পৌঁছে গেছে রোভার ‘পাসিভিআরান্স’। এমন মঙ্গল যান পেটের ভিতরে করে নিয়ে গেছে একটি ক্ষুদ্র হেলিকপ্টার-ড্রোন ‘ইনজেনুইটি’। উদ্দেশ্য মঙ্গলের কংকরে প্রাচীন জীবনের চিহ্ন খুঁজে দেখা। তবে লাল মাটির এবড়োথেবড়ো এবং সমতল অঞ্চলে রোভার এবং ‘ইনজেনুইটি’ উড়ে উড়ে মাটির নমুনা সংগ্রহ করলেও দুর্গম অঞ্চলে বিশেষ করে সুড়ঙ্গপথে, গুহার ভিতরে প্রবেশ করে নমুনা সংগ্রহ করার মতো করে এসব যন্ত্রপাতি নির্মাণ করা হয়নি। তাই বিজ্ঞানীরা আবারো চার পায়া কুকুরের শরণাপন্ন হয়েছে।
তবে চার পায়া হলেও এটি কোনো প্রাণী নয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এবং ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামে সমৃদ্ধ একটি রোবট কুকুর। গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ আমেরিকান জিওফিজিক্যাল সমিতির বার্ষিক সভায় মঙ্গলগ্রহে এমন কুকুর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরই নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি মঙ্গলগ্রহে অনুসন্ধান এবং গবেষণার জন্য একটি রোবোটিক কুকুর সেখানে প্রেরণ করবে বলে জানিয়েছে। এটি বোস্টন ডায়নামিক্স সাইবার রোবট কুকুরের উন্নত সংস্করণ।
চাকা বা পাখা বিহীন উন্নত প্রযুক্তিতে ঠাসা চতুষ্পদী যান্ত্রিক কুকুরটি মঙ্গলগ্রহের সুড়ঙ্গপথে, গুহার ভিতরে অনায়াসে প্রবেশ করে নানা তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। এতে করে সম্ভব হবে ভূ স্তরের নিচে লুকিয়ে থাকা খানা-খন্দক, দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ ইত্যাদির সঠিক মানচিত্র তৈরি করা। কুকুরটি নিজে থেকে বিপদসংকুল পথগুলোর মধ্যে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ রাস্তা বেছে নিতে পারবে এবং খুবই দক্ষতার সঙ্গে পৃথিবী থেকে পাঠানো আদেশ পালন করবে। এছাড়াও এর ওজন অনেক কম, মাত্র ৩১.৭৫ কেজি (৭০ পাউন্ড) এবং সেখানে যে রোভারগুলি রয়েছে সেসবের থেকে তিনগুণ দ্রুতগতিতে চলাফেরা করতে সক্ষম।
সূত্র: নাসা
