শেয়ারবাজারে টানা দরপতন

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২১, ২১:০৮

ইত্তেফাক রিপোর্ট

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার সূচকের বড় পতনের পর গতকাল রবিবারও শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। এ নিয়ে টানা তিন কার্যদিবস দরপতন হলো। এতে বিনিয়োগকারীরা  সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা পুঁজি হারিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আরো দরপতনের শঙ্কায় চরম হতাশায় দিন কাটছে বিনিয়োগকারীদের। করোনার সংক্রমণ বাড়ায় লকডাউনের আশঙ্কায় অনেকে আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর এ কারণেই মূলত বাজারে দরপতন হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গতকাল ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপে প্রকৌশল, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতসহ ১২টি খাতের সব কটি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক খাতের বেশির ভাগ শেয়ারের দামও। গতকাল দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক কমেছে ৮৫ পয়েন্ট। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমেছে ২৮৪ পয়েন্ট। সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেন এবং বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হঠাত্ করে করোনার প্রভাব বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্য গুজব ছড়িয়ে পড়েছে যে, দেশে আবারও লকডাউন আসতে পারে। এতে পুঁজিবাজারসহ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়বে। তাই হাতে নগদ অর্থ রাখার জন্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা দেখা গেছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বড় বিনিয়োগকারীরা বেশি শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল দিন শেষে ডিএসএক্স সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮৪ দশমিক ৯১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৪৯ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ২১ দশমিক ১৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২৬ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএস-৩০ সূচক ৩৯ দশমিক ৩১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৪ পয়েন্টে।

ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬১৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৬৮৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩১টির, কমেছে ২৩৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। ডিএসইতে দাম বাড়ার শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হচ্ছে—রিপাবলিক ইনসিওরেন্স, জনতা ইনসিওরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক ইনসিওরেন্স, স্কয়ার টেক্সটাইল, অগ্রণী ইনসিওরেন্স, প্যারামাউন্ট ইনসিওরেন্স, আল আরাফাহ ব্যাংক, জাহিন টেক্সটাইল ও নিটল লিমিটেড। দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২৮৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৮৬ পয়েন্টে। লেনদেন হওয়া ২৩১  প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭টির, কমেছে ১৬৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৮টির। এ বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা।