কম মূল্যে ওষুধ বিক্রিতে বাধা

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২১, ২১:১২

পল্লবী-মিরপুরের অনেক ফার্মেসিতে  ৫-৬ শতাংশ কমিশনে ক্রেতাদের কাছে ওষুধ বিক্রি করা হতো। কিন্তু মিরপুর ৯ থানা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমন্বয় কমিটি নকল-ভেজাল ওষুধ বন্ধের নামে সব ফার্মেসি মালিককে ওষুধের গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে (M.R.P) ওষুধ বিক্রি করতে নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ড্রাগ কমিটির সংঘবদ্ধ শক্তির দাপটে ফার্মেসি মালিকরা কমিশন দিয়ে ওষুধ বিক্রি করতে পারছেন না। কমিটির এ নির্দেশ প্রতিপালিত হচ্ছে কি না তা তাদের লোকজন নিয়মিত  তদারকি করছেন। কেউ তা অগ্রাহ্য করলে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, ড্রাগ কমিটি কি এধরনের নির্দেশ জারি করতে পারে? কে কী দামে পণ্য বিক্রি করবে এটা ব্যবসায়ীদের নিজস্ব বিষয়। সমিতি বড়জোর সর্বোচ্চ বিক্রয় মূল্যের বেশি দামে ওষুধ বিক্রি না করার নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু কম লাভে ওষুধ বিক্রি করতে বাধা দেওয়া কি কোনো সমিতির কাজ হতে পারে? এটা কি সিন্ডিকেট করে জনগণকে শোষণ করা নয়? আমি যে ইনসুলিন ৩৮৫ টাকায় কিনতাম, এখন তা ওষুধের গায়ে লেখা M.R.P (সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য) ৪১৫ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছি। তাছাড়া নকল ওষুধ বিক্রি করতে গিয়ে একাধিক বার ধরা খাওয়া ফার্মেসির বিরুদ্ধে মিরপুর ড্রাগ সমিতি কী ব্যবস্থা নিয়েছে? আসলে তারা সিন্ডিকেট করে জনগণকে শোষণ করছে—এটা বেআইনি, অনৈতিক। এতে ওষুধ ভেজালকারীরাই লাভবান হবে। ভেজাল নিয়ন্ত্রণের নামে কমিশন মূল্যে ওষুধ বিক্রিতে বাধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ নিয়ে ব্যবসা করাও কাম্য হতে পারে না। তাই মিরপুর ড্রাগ সমন্বয় কমিটির এই জনস্বার্থবিরোধী কাজ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য  সরকার ও ওষুধ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মো. আলী হায়দার

ঢাকা