রাঙ্গাবালীর রাঙা তরমুজের ভালো ফলনে খুশি চাষি

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২১, ২১:১২

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা 

রাঙ্গাবালীতে রাঙা তরমুজের ভালো ফলনে চাষিরা বেশ খুশি। উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠে শুধুই সবুজের সমারোহ। চোখে পড়বে লতায় মোড়ানো গাঢ় সবুজ পাতা, তারই ফাঁকে হালকা সবুজের ওপর গাঢ় ছাপার রসালো ফল তরমুজ। উপজেলার কোড়ালিয়া গ্রামের তরমুজ চাষি নাসির বলেন, রাঙ্গাবালীর তরমুজ খেতে ভালো, বড় ও রং লাল টুকটুকে হওয়ায় ঢাকাসহ সব জায়গার মানুষের কাছে খুবই পরিচিতি লাভ করেছে। এ কারণেই এখানকার তরমুজের চাহিদা বেশি। অনেক চাষি বছরে কেবল তরমুজ আবাদ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। বৃষ্টি না হওয়ায় এবার তরমুজের ভালো ফলন হইছে। 

রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহ কৃষি কর্মকর্তা মো. জুয়েল শিকদার বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ৭ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ চাষি তরমুজ আবাদ করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি হেক্টরে ৪০ মেট্রিকটন হারে ৩ লাখ পাঁচ হাজার ২০০ মেট্রিকটন ফলন উত্পাদন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কোনো ধরনের দুর্যোগ না হলে গতবছরের ক্ষতি পুষিয়ে চাষিরা লাভবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে এবং দামটাও ভালো পাবে তরমুজ চাষিরা।

গরমের শুরুতেই বাজারে তরমুজের ব্যাপক চাহিদা

বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, বাগাতিপাড়ায় গরমের শুরুতেই বাজারে উঠেছে তরমুজ। প্রথম বাজারে আসায় দামও বেশি। বাজারে নতুন তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। তবে বাজারে নতুন আসার কারণে এর চাহিদাও বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।

স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, ১০ মণ তরমুজ এনেছিলাম কয়েক দিন আগে, এরই মধ্যে বিক্রি প্রায় শেষ। বাজারে তরমুজের চাহিদা ব্যাপক। তরমুজ কিনতে আসা সাংবাদিক খাদেমুল ইসলাম জানান, বছরের প্রথম ফল তরমুজ বাজারে এসেছে তাই কিনছি। পরিবারের আবদারের কারণে দাম একটু বেশি হলেও কিনছেন বলে জানান তিনি। তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে আমদানি বেশি হলে তরমুজের দাম কমবে। এদিকে তরমুজের গুণ সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. ফরিদুজ্জামান বলেন, শরীরে পানি শূন্যতা পূরণে তরমুজ খুবই উপকারী।

এনায়েতপুরে দাম চড়া

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গরমের শুরুতেই এনায়েতপুর হাটে উঠতে শুরু করেছে রসালো ফল তরমুজ। বাংলালিংক জাতের এ তরমুজ প্রথম বাজারে আসায় দামও বেশ চড়া। এনায়েতপুর হাটের ব্যবসায়ী আব্দুল আওয়াল শেখ জানান, আগাম বাংলালিংক জাতের তরমুজ পাবনা ও নাটোর থেকে কিছু কিছু করে আসছে। তবে দাম বেশ চড়া। গত শুক্রবার এনায়েতপুর হাটে বিক্রির জন্য কিছু তরমুজ আনা হয়েছিল। আগ্রহ থাকলেও সকল শ্রেণির মানুষ ৪০/৫০ টাকা কেজি দরের এ তরমুজ কিনতে পারেনি। তরমুজ বিক্রেতা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, নতুন এই লোভনীয় তরমুজ সবাইকে আকৃষ্ট করেছে। পাবনার বেড়া থেকে ১৫ মণের মতো বাংলালিংক তরমুজ এনেছিলাম বিক্রির জন্য। তা দুই দিনেই শেষ। আবারও আনতে যাব। তবে দিন যত যাবে ততই এর দাম কমবে। তরমুজ কিনতে আসা শওকত আলী ও খোরশেদ আলম সরকার জানান, দাম আসলেই চড়া। দেখে ভালো লাগলো তাই কিনেছি।