ইসপগুল ও চিয়া চাষে সফলতা এসেছে

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২১, ২১:১৫

চাষ শুরু হয়নি কৃষক পর্যায়ে

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

দেশে ঔষধি ফসল ইসপগুল ও চিয়া চাষে সফলতা এসেছে। তবে ফসল দুটির চাষ কৃষক পর্যায়ে এখনো শুরু হয়নি। মাগুরার আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রে এ দুটি ফসলের চাষ করা হচ্ছে।

ঔষধি ফসল ইসপগুলের বীজ ও ভুসির জন্য উত্পাদিত হয়। ভুসির সঙ্গে আমরা কম-বেশি পরিচিত। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে মানুষ ইসপগুলের ভুসি খায়। মসলা গবেষণা কেন্দ্রের কৃষিবিজ্ঞানী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ইসপগুল মূলত শুষ্ক ও ঠাণ্ডা আবহাওয়ার ফসল। এর আদি জন্মস্থান ভারত। রাজস্থান ও গুজরাটে ইসপগুলের চাষ হয়। এছাড়াও আমেরিকা, পাকিস্তান, ফ্রান্স ও রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশে স্বল্প পরিমাণে চাষ হয়। ইসপগুল একটি বর্ষজীবী উদ্ভিদ ৩৫-৪০ সেন্টিমিটার লম্বা হয় গাছ। কাণ্ড নরম ও লোমশ। শীষের দৈর্ঘ্য দুই-তিন সেন্টিমিটার। ১ হাজার বীজের ওজন মাত্র দুই গ্রাম। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে বীজ রোপণ করতে হয়। বপনের ৬০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে। একটি গাছে ২৫-৩০টি শীষ বের হয়। ১২০ থেকে ১৩০ দিনের মধ্যে পরিপক্ব হয়। হেক্টরপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কেজি ফলন পাওয়া যায়।

২০১৮ সাল থেকে মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রে ইসপগুলের চাষ নিয়ে গবেষণা চলছে। সফলতা এসেছে। তবে সমস্যা হচ্ছে বীজ থেকে ভুসি আলাদা করার যন্ত্র নেই। আর চিয়াও একটি ঔষধি ফসল। এতে প্রচুর ক্যালোরি থাকে এবং শরীরে ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে। এটি মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকায় প্রথম চাষ হয়। সেখান থেকে অন্যান্য দেশে বিস্তার হয়। চিয়াতে আছে প্রোটিন, ফাইবার, লিপিড, ওমেগা এসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আমাদের দেশে বর্ষজীবী চিয়া রবি মৌসুমে চাষের উপযোগী। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চাষ করা যায়। আর ৯০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়, রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম হয়। হেক্টরে দুই টন ফলন হয়।