করোনা মহামারিতে দীর্ঘ সময় সবাই ঘরবন্দী। এরপর অফিস আদালত খুললেও মানুষের ঘোরাফেরার জায়গা ছিল না বললেই চলে। বইমেলা যেন ঘরবন্দী মানুষের কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। বইমেলা ঘরে আটকে থাকা ছেলেমেয়েদের কাছে মুক্তির আনন্দ নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। ফলে, শুরু থেকে মানুষের আনাগোনায় জমে উঠেছে বইমেলা। তাই, ১৫ লাখ বর্গফুটের এই বিশাল মেলাও বিকালের পর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
সন্ধ্যের পরে বইমেলা যেন আরো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। স্বাধীনতা স্তম্ভের আলো এসে পড়ে মেলাঙ্গনে। এর সঙ্গে প্যাভিলিয়ন ও বিভিন্ন স্টলের নান্দনিক ডিজাইন- উত্সবমুখর পরিবেশ এনে দিয়েছে। বিশাল পরিসরে এবারের বইমেলা সত্যিকার অর্থেই দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে। হয়ে উঠেছে পাঠকবান্ধব। প্রশস্ত পথ। ঘোরানো পেঁচানোর ডিজাইনের পরিবর্তে সোজা সরল ইট বিছানো পথের দুই ধারে বইয়ের স্টল। এর মধ্যে দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন। আর এসবের মধ্যে সুন্দর বসার ব্যবস্থা করেছে বইমেলা কর্তৃপক্ষ।
অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, মেলার পরিসর এবার প্রায় দ্বিগুণ। সেই তুলনায় আজ মেলার চুতর্থ দিনে যত মানুষ এসেছেন তা সত্যিই আশাপ্রদ। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আশা করছি মেলার সামনের দিনগুলো আরো উজ্জ্বল হবে।
অবসর প্রকাশনীর ম্যানেজার মাসুদ রানা বলেন, বিকেলের পর মেলা জমে উঠতে শুরু করেছে। কারণ মেলার খোলা প্রাঙ্গণে সবাই এসে একটু প্রাণ খুলে আড্ডা দিতে পারেন। বই দেখতে কিনতে পারেন। এমনটা আমরা এর আগে দেখিনি। এবার বিক্রিও বেশ আশাব্যঞ্জক।
মেলায় স্বাস্থ্যবিধি কড়াকড়ি ভাবে মানা হচ্ছে। মেলায় প্রবেশের সময় সবার শরীরে তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। সেইসঙ্গে হাতে স্যানিটাইজার দিয়ে ও মুখে মাস্ক পরে মেলায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এ কার্যক্রম।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশ পেতে যাচ্ছে সাদাত হোসাইনের বই
মেলায় অন্যপ্রকাশের স্টলে বসে বইয়ে স্বাক্ষর করছিলেন এসময়ে তরুণ জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইন। অন্যপ্রকাশ থেকে এসেছে তার উপন্যাস ‘তোমার নামে সন্ধ্যা নামে’। বইমেলায় তার আরো কয়েকটি বই প্রকাশ পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও আনন্দ পাবলিকশন, দে’জ পাবলিকেশন্সও তার বই প্রকাশ করছে বলে জানালেন লেখক। সাদাত জানালেন, বইমেলা শুরু থেকেই বেশ জমে উঠেছে। মেলায় বই বিক্রিও হচ্ছে খুব ভালো। তবে, পাঠকদের একটা বড় অংশ অনলাইনে বই কিনছেন। এটা খুব ইতিবাচক দিক। আমাদের বই বিক্রির ক্ষেত্র বাড়ছে। লেখক-প্রকাশক সবাই এতে উপকৃত হবেন।
ভারতবর্ষ ভিসামুক্ত হোক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গতকাল বইমেলায় আসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেশ কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বিদেশের অনেক অতিথি বাংলাাদেশে আসছেন। তাদের আমরা বইমেলায় আসতে উত্সাহিত করব। অনেকেই আসবেন বলে আশা করছি।
এই সময় তিনি আরো বলেন, আমি চাই, ভারতবর্ষ ভিসামুক্ত হোক। ইউরোপের মতো যেন এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে ভিসা না লাগে। মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, ভারত থেকেও করোনার মধ্যেও যে অতিথিরা আসছেন এটাই আমাদের প্রকৃত বন্ধুত্বের প্রমাণ। এতে শুধু সম্পর্ক নয়, দেশেরও উন্নয়ন হবে। ইতিমধ্যে অনেক দেশের সঙ্গে আকাশ ও জলপথে সংযোগ চালু হয়েছে। আগামীতে আরো অনেকের সঙ্গে হবে।
লিটল ম্যাগ চত্বর ফিরছে আগের স্থানে
এ বছর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের গেটের দিকে রাখা হয়েছিল লিটল ম্যাগ চত্বর। কিন্তু অধিকাংশ লিটল ম্যাগ স্টল মালিকদের দাবির কারণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত চত্বরের পাশে সরিয়ে আনা হচ্ছে লিটল ম্যাগ চত্বর।
মেলামঞ্চে অনুষ্ঠান : গতকাল রবিবার বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কল্যাণী ঘোষ, বুলবুল মহলানবীশ এবং আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামেন্দু মজুমদার।
এদিকে, লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন মুম রহমান, মন্দিরা এষ এবং বিধান রিবেরু।
আজকের অনুষ্ঠান : বইমেলার মূলমঞ্চে আজ অনুষ্ঠিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন তারেক রেজা। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন নাসির আহমেদ, খালেদ হোসাইন এবং মিনার মনসুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কবি অসীম সাহা।
