ফেনী মৈত্রী সেতু আঞ্চলিক সংযোগের (কানেক্টিভিটি) নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও ভারতের ত্রিপুরার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ফেনী নদীর ওপরে স্থাপিত এই সেতু দুই দেশের সম্পর্ক ও সম্মিলনের পক্ষে দাঁড়াবে। বাণিজ্য ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অপার সুযোগসমূহ উভয় দেশের জন্য নতুন নতুন পথ খুলে দেবে।
সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমন্বয়পূর্ণ যোগাযোগের ফলাফল সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় আয় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে ভুটান ও নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সহজতর হবে। বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল তথা বিবিআইএনভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়ন এই উপ-অঞ্চলকে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মেরুতে পরিণত করতে পারে। অন্যদিকে ভারতের জন্য সেতুটি আগরতলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যকার দূরত্ব হ্রাস করে উত্তর-পূর্ব ভারতে বাণিজ্য প্রসারে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে সেতুর প্রাসঙ্গিকতা আরো গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে। ভারতের সাবরুম থেকে বাংলাদেশের রামগড় পর্যন্ত সংযোগ স্থাপনকারী ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ৭৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার কমিয়ে এনেছে। এর ফলে বন্দরের পরিবহন ব্যয় ৮০ শতাংশ হ্রাস পাবে। পাশাপাশি এই সেতুটি সাবরুমকে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রে রূপান্তরিত করবে।
এছাড়াও, কন্টেইনার, ট্রান্সশিপমেন্ট ও যাবতীয় আনুষঙ্গিক সুবিধাসমেত একটি সমন্বিত চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে। সাবরুমের চেকপোস্টটি দুই দেশের মধ্যে মালামাল পরিবহন ও যাত্রী চলাচল সহজ করবে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের নতুন বাজারের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং যাত্রীদের অবাধ চলাচলে সহায়তা করবে। অভিবাসন, শুল্ক এবং সীমান্ত সুরক্ষার মতো সকল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা যাতে এক জায়গা থেকেই তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারে এই লক্ষ্যে সমন্বিত চেকপোস্ট তৈরি করছে ভারত। এ পর্যন্ত ২০টি সীমান্ত চেকপোস্টই সমন্বিত চেকপোস্ট আর সেগুলোর অর্ধেকই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবস্থিত।
মহামারির কারণে বিশ্ব যখন দুর্বল অর্থনীতির ধাক্কা সামলাচ্ছে তখন মৈত্রী সেতু বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ সুগম করে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে গেছে।
