বঙ্গবন্ধুর পথ অনুসরণ করেই দেশ আজ উন্নয়নশীল :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২১, ২২:১৮

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখানো পথ অনুসরণ করেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এটি এখন প্রমাণিত হয়েছে যে, বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত উন্নয়নের পথেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে আগামী ৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গতকাল রবিবার জাতির পিতার ১০১তম জন্মশবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দলীয় কার্যালয় ২৩, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,          ‘জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেলেও তিনি এই সময়ের মধ্যে যে কাজগুলো করে গেছেন, শুধু সেগুলো অনুসরণ করলেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্ম না হতো, তাহলে আমরা বাঙালিরা জাতি হিসেবে কখনো বিশ্বে মর্যাদা পেতাম না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানগুলো করার সুযোগ পাচ্ছি জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল বলেই। অথচ পঁচাত্তরের পরে ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নামটি পর্যন্ত মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।’ তিনি এ সময় কারো নাম উল্লেখ না করে সাবেক সেনাশাসক জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বানানোর বিএনপি-জামায়াতি ষড়যন্ত্রের কঠোর সমালোচনা করেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা জাতির পিতার শততম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করছি। এ সময় এটুকুই বলব, জাতির পিতা এই দেশটিকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন এবং তার লক্ষ্য ছিল এদেশের দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের ভাগ্য তিনি পরিবর্তন করবেন।’ ১৫ই আগস্ট ট্র্যাজেডির উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইতিহাস পালটে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। সত্যকে সত্য বলা নিষিদ্ধ ছিল। ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, যে ভাষণের মধ্য দিয়ে অসহযোগ আন্দোলনকে সশস্ত্র বিপ্লবে রূপ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু, সেই ভাষণ নিষিদ্ধ ছিল। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘’৭৫ থেকে ’৯৬ পর্যন্ত একটা কালো অধ্যায় ছিল। ২০০১ থেকে ২০০৬ আরেকটি কালো অধ্যায়। আমরা সেখান থেকে উত্তরণ করেছি। জাতির পিতার দেখানো পথে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। ’৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ করছি। শুধু আলোচনা, সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ থাকলেই হবে না, দরিদ্রদের সহযোগিতা করতে হবে।’ আবারও করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার, এটা খুব প্রয়োজন। কারণ আমরা আমাদের গৃহীত পদক্ষেপে করোনা ভাইরাস যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’ চাষাবাদের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মী ভাইদেরও আরেকটি অনুরোধ করব, এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। কারণ, করোনা ভাইরাসের কারণে যে কোনো সময় বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে।’

এ সময় ‘শস্যক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু’ তৈরি করে গিনেস বুকে নাম করায় কৃষি ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে ঐ কৃষককে ধন্যবাদ জানাই, যিনি এ কাজটি করেছেন।’ 

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভার প্রারম্ভিক বক্তৃতা করেন। আরো বক্তৃতা করেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ। গণভবন প্রান্তে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।