ঝিনাইদহে পরকীয়ার অভিযোগে প্রেমিক প্রেমিকার মাথার চুল, ভ্রু কেটে, মুখে চুন-কালি মাখিয়ে ও গলায় জুতার মালা দিয়ে গ্রামছাড়া করেছে গ্রামের মাতাব্বরগণ। ন্যক্কারজনক এ ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৭ মার্চ রাতে শৈলকুপা উপজেলার আবাইপর গ্রামে। ঘটনার রাতেই তাদেরকে গ্রামছাড়া করা হয়। ফলে এতোদিন ঘটনাটি জানাজানি হয়নি। অবশেষে গত শনিবার (২০ মার্চ) নির্যাতিতার বাবা বাদি হয়ে ছয় জনকে আসামি করে শৈলকুপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত ১ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
লাঞ্ছিত মেয়েটির বাবা জানান, ১১-১২ বছর আগে তার মেয়ের সঙ্গে শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর গ্রামের নাসিম শেখ নামে এক ব্যক্তির বিয়ে হয়। তাদের ঘরে সাত বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। তবে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। আবাইপর গ্রামের লোকজন জানান, পার্শ্ববর্তী কুমার নদে মাছ ধরতে গিয়ে মেয়েটির স্বামীর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে শৈলকুপার বড়বাড়ি বগুড়া গ্রামের এক যুবকের। সেই সুবাদে ঐ যুবক প্রায়ই নাসিম শেখের বাড়িতে যাতায়াত করতে থাকে। বাড়িতে আসা যাওয়ার এক পর্যায়ে মেয়েটির সঙ্গে ঐ যুবকের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ঘটনার রাতে নাসিম শেখ নদীতে মাছ ধরতে গেলে ঐ যুবক মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে আসে। পরে গ্রামের লোকজন তাদেরকে ঘরে আটকে ফেলে। পরে তারা গ্রামে শালিস বসিয়ে মেয়েটি ও তার প্রেমিক যুবকের মাথার চুল, ভ্রু কেটে মুখে চুন-কালি মাখিয়ে দেয় এবং গলায় জুতার মালা পরানোর আদেশ দেয়। শাস্তি প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয় মেয়েটির স্বামী নাসিম শেখকে। সে স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিকের মাথার চুল, ভ্রু কেটে মুখে চুন-কালি মাখিয়ে দেয় ও গলায় জুতার মালা পরায়। পরে দুই জনকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
শৈলকুপা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, ২০ মার্চ বিকালে নির্যাতিতার বাবা বাদি হয়ে তার মেয়ের শ্লীলতাহানি, মাথার চুল চোখের ভ্রু কেটে নির্যাতন করার অভিযোগ এনে ছয় জনকে আসামি করে শৈলকুপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার এজাহার নামীয় আসামি নাসিম শেখ, আজাদ বিশ্বাস, শিরুল বিশ্বাস, বিশারত বিশ্বাস ও সিরাজ বিশ্বাসসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। রবিউল ইসলাম নামে একজন আসামি পলাতক রয়েছে
