দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। উল্টো নানা ধরনের বিড়ম্বনা তো আছেই। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ ড্রাইভ টেস্টের যে ফলাফল তাতে দেখা যাচ্ছে কল ড্রপ ও মিউট কলের শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণফোন। এমনকি ফোরজি ইন্টারনেটে যে গতি পাওয়ার কথা সেটাও মিলছে না গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কে। কল সেটআপ টাইমেও (এক নম্বর থেকে আরেক নম্বরে সংযোগ স্থাপনের মধ্যবর্তী সময়) সবচেয়ে বেশি সময় লাগে শীর্ষ এই অপারেটরে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আবার ড্রাইভ টেস্ট শুরু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেছেন, ‘এবার ড্রাইভ টেস্টের ফলাফল পাওয়ার পর যারা সঠিক সেবা দিতে পারবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ গ্রাহকদের স্বার্থই আমাদের কাছে মুখ্য।’ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান বলেন, ‘আমাদের কাছে যে অভিযোগ জমা হয় তার মধ্যে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে অভিযোগই বেশি। এখন থেকে আমরা প্রতিটি অভিযোগের সুরাহা করব।’
সর্বশেষ ড্রাইভ টেস্টে ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার এলাকায় আনুমানিক ৩ হাজার ৩০০ স্যাম্পল গ্রহণ করা হয়। এগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কলড্রপে ২ শতাংশকে স্ট্যান্ডার্ড ধরা হয়। কিন্তু গ্রামীণফোনের কলড্রপের হার ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অন্য অপারেটরগুলোর কল ড্রপের হার ২ শতাংশের নিচেই আছে। কল সেটআপের সময় ৭ সেকেন্ড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে নির্ধারণ করা আছে। সেখানে গ্রামীণফোনের এক সংযোগ থেকে আরেকটা সংযোগ স্থাপন হতে সময় লাগে ১০ দশমিক ১৪ সেকেন্ড। অন্যদের সেখানে ৭ সেকেন্ডের কাছাকাছি। ফোরজি ইন্টারনেটের স্প্রিড ৭ এমবিপিএস স্ট্যান্ডার্ড ধরা হয়। সেখানে গ্রামীণফোনের স্প্রিড পাওয়া গেছে ৫ দশমিক ৮৮ এমবিপিএস। এখানে অন্যদের মানও সন্তোষজনক নয়।
এর আগেও দেখা গেছে, এক বছরে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর কল ড্রপ হয়েছে ২২২ কোটি ১৫ লাখ মিনিট। এর মধ্যে গ্রাহকদের একের অধিক কল ড্রপ হয়েছে ৬৯ কোটি ৩৮ লাখ মিনিট। এরমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে মাত্র ২২ কোটি ৬ লাখ মিনিট। সবচেয়ে বেশি কল ড্রপ শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনেই। সবমিলিয়ে মোট কল ড্রপের প্রায় ৪৭ শতাংশই গ্রামীণফোন গ্রাহকদের হয়েছে।
টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে যে তরঙ্গ পেয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটররা সেটা সংযোগ স্থাপিত হলে সেবার মান আরেকটু বাড়বে। তবে কাঙ্ক্ষিত সেবা খুব সহসাই মিলবে বলে মনে করছেন না তারা।
