বিজেপির ইশতেহার প্রকাশের পর অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হবে

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২১, ০০:৩৯

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলেই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কার্যকর করা হবে। শরণার্থীদের নাগরিকের মর্যাদা দেওয়া হবে। গতকাল রবিবার কলকাতায় বিজেপির নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করে এ কথা বলেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, ইশতেহার অনুযায়ী প্রত্যেক শরণার্থীকে ৫ বছর ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মমতা ব্যানার্জির সরকার শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় কিছুই করেননি। উলটো তাদের নাগরিকত্ব প্রদানে বাধা তৈরি করেছেন।

ভোটমুখী ইশতেহার (বিজেপি বলছে সংকল্পপত্র) প্রকাশ করে অমিত শাহ বলেন, আমি ‘জাতে বেনে’। আমার ওপর ভরসা রাখুন। এরপর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে বিজেপি কী করবে তার একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা বলেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে মহানায়ক উত্তম কুমারের নামে ফিল্ম সিটি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে নোবেলের মডেলে পুরস্কার চালু, পাঁচ টাকায় খাবার, প্রতি মাসে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুত্ নিখরচায় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। এর আগে বাঁকুড়ায় এক জনসভায় ভাষণ দেন তিনি।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের এগরায় এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘দিদির লোক আজকাল দেওয়াল চিত্র আঁকছে। আমার মাথা নিয়ে ফুটবল খেলছে। আপনি বাংলার সংস্কৃতিকে অপমান করছেন এভাবে? আমি আমার মাথা ১৩০ কোটি দেশবাসীর কাছে ঝুঁকিয়েই রেখেছি। দিদি, আপনি চাইলে আমার মাথায় পা রাখতে পারেন, আর লাথিও মারতে পারেন। কিন্তু আপনাকে আমি আর বাংলার বিকাশের ওপর লাথি মারতে দেব না।’

এদিনই নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জির বিরোধী প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বাবা এবং এমপি শিশির অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির এমপি সমর্থন সংখ্যা বেড়ে ২০ হলো। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২ আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ২২ আসন জিতেছিল। বিজেপি পেয়েছিল ১৮ আসন। এর আগে তৃণমূলের এক এমপি বিজেপিতে যোগ দেন। এদিন যোগ দিলেন শিশির অধিকারী। ফলে তৃণমূলের আসন কমে হলো ২০। বিজেপিরও বেড়ে ২০।

এদিকে মেদিনীপুরেরই উত্তর কাঁথির সভা থেকে বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘তোমরা আমার পা ভেঙে দিয়েছ। ভেবেছ এক পায়ে কিছু করতে পারব না। ঐ এক পায়েই এমন শট মারব, বাংলার বাইরে গিয়ে পড়বে।’ মমতা শিশির অধিকারীর দলবদল প্রসঙ্গে বলেন, ‘মেদিনীপুরে আমি কাজ করেছি আর ওরা নাম কিনেছে। আমিই গাধা। যে সহজ সরল মনে অন্ধভাবে ওদের বিশ্বাস করেছি। ওরা আগে ইঁদুর ছিল এখন বাঘ হয়েছে। আর যার ক্ষমতায় বাঘ হয়েছে, এখন তাকেই খেতে আসছে। নির্বাচনের পর ওরা আবার ইঁদুরে পরিণত হবে।’

 

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হলেন মিঠুন

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি কলকাতার কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের ভোটার হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে জল্পনা দানা বেঁধেছে, তবে কি তিনি ভোটে বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন? তিনিই কী তাহলে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী? যদিও মিঠুন বা বিজেপি কোনো পক্ষই এ ব্যাপারে কিছু খোলসা করেনি।

কলকাতার কাশীপুর-বেলগাছিয়া এলাকায় ২২/১৮০ রাজা মণীন্দ্র রোডে মিঠুনের বোন শর্মিষ্ঠা সরকারের বাড়ি। সেই বাড়ির ঠিকানায় ভোটার হয়েছেন তিনি। মিঠুনের ভগ্নীপতি ধীমান কুমার সরকার এবং বোন শর্মিষ্ঠা জানিয়েছেন, ‘দাদা কলকাতায় এলে আমাদের বাড়িতেই ওঠেন। কিছুদিন আগে তিনি কলকাতার ভোটার হয়েছেন।’

গত ৭ মার্চ কলকাতায় ব্রিগেডের সভায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মিঠুন। এর পর থেকেই মিঠুনকে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হতে পারে, এমন জল্পনা চলছে। যদিও এ ব্যাপারে মিঠুন কোনো মন্তব্য করেননি। বিজেপির পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি। তবে ভোটের আগে তার নাম কলকাতার ভোটার তালিকায় ওঠার খবর সেই জল্পনায় নতুন করে ইন্ধন জুগিয়েছে। বিজেপির এখনো বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা বাকি রয়েছে। মনে করা হচ্ছে সেগুলোর কোনো একটায় তাকে প্রার্থী করা হতে পারে।

এর আগে মিঠুন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজ্যসভায় এমপি হলেও সরাসরি ভোটযুদ্ধে কখনো নামেননি। তবে যোগদানের পর বিজেপির হয়ে প্রচার করেছেন তিনি। ব্রিগেডে বিজেপিতে যোগদানের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিঠুন বলেছিলেন, ‘আমি জলঢোঁড়াও নই, বেলোবোড়াও নই। আমি জাত গোখরো। দাদার প্রতি ভরসা রাখবেন। বিশ্বাস রাখুন। দাদা কখনো ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়নি। ’

ভোটার কার্ডে মিঠুনের নাম মিঠুন বসন্ত চক্রবর্তী। মহারাষ্ট্র রাজ্যের রীতি সেখানকার বাসিন্দারা অর্থাত্ মারাঠীরা নিজের নামের পর বাবার নাম তারপর পদবি লেখেন। মিঠুন মহারাষ্ট্রের ভোটার হওয়ার পর সেই রীতি মেনে নিজের নাম বদল করেছিলেন। তাঁর প্রয়াত বাবার নাম বসন্ত চক্রবর্তী। তাই তার নাম হয় মিঠুন বসন্ত চক্রবর্তী।

পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী। বরিশালের গৌরাঙ্গ বম্বে গিয়ে হয়ে গেলেন  মারাঠি মিঠুন বসন্ত চক্রবর্তী।