দেশে প্রতি বছর হূদেরাগে প্রাণহানি ৫৭৭৬
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক-২০২০ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রান্সফ্যাটজনিত হূদেরাগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে প্রতি বছর এ সংক্রান্ত রোগে মারা যায় ৫ লাখ মানুষ । এর মধ্যে বাংলাদেশে মারা যায় ৫৭৭৬ জন । নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আশা করছে এই খসড়া প্রবিধানমালা বাস্তবায়ন শুরু হলে নিরাপদ খাদ্যে বাংলাদেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে। গতকাল রাজধানীর বিজয় ৭১ অডিটরিয়ামে আয়োজিত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা-২০২১ঃ খসড়া প্রবিধানমালা উন্মুক্তকরণ ও মতবিনিময় সভায়’ বক্তারা এ সব কথা বলেন। সভায় সর্বসাধারণের মতামতের জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে (http://www.bfsa.gov.bd) এই প্রবিধিমালা উন্মুুক্ত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, ট্রান্সফ্যাটি এসিড (টিএফএ) বা ট্রান্সফ্যাট একটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাদ্য উপাদান। খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উত্স পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল বা পিএইচও। যা বাংলাদেশে ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামেই সুপরিচিত। সাধারণত বেকারি পণ্য, প্রক্রিয়াজাতকৃত ও ভাজা পোড়া স্ন্যাক্স এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ ও সড়ক সংলগ্ন দোকানে খাবার তৈরিতে পিএইচও বা ডালডা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মাত্রাতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ উচ্চহারে হূদেরাগ, হূদেরাগজনিত মৃত্যু, স্মৃতিভ্রংশ (ডিমেনশিয়া) এবং স্বল্প স্মৃতিহানি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাইউম সরকার বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তেল, চর্বি এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২ শতাংশের নিচে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্রবিধানমালায়। সকলের মতামত গ্রহণের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হলো। আশাকরি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা খসড়া প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করতে পারব।
ট্রান্সফ্যাট বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান ও বিএফএসএ সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-২০২৩ সালের মধ্যে খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আমরা এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে খসড়া প্রবিধানমালাটি প্রণয়ন করেছি।’ ট্রান্সফ্যাট বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন ও কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম খসড়া প্রবিধানমালার ওপর আলোচনায় অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘ট্রান্সফ্যাট তথা হূদেরাগ ঝুঁকি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এই খসড়া প্রবিধানমালা একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।’ মতবিনিময় সভায় ট্রান্সফ্যাট বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যবৃন্দ, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
