ক্যান্টিন বন্ধ, দুর্ভোগে কর্মকর্তা-কর্মচারী

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২১, ২২:০৮

ঢাবির প্রশাসনিক ভবন

আরফিন শরিয়ত, ঢাবি সংবাদদাতা

করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও সব ধরনের পরীক্ষা। তবে রেজিস্ট্রার ভবনের কার্যক্রম চললেও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বন্ধ রাখা হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ব্যবহার হওয়া ক্যান্টিন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে অফিস খুললেও খোলা হয়নি প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিনটি। কর্মকর্তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানালেও খোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্যান্টিন চালু করার অনুমতি অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন খুলছে না তারা জানে না।

রেজিস্ট্রার ভবনের কর্মকর্তারা জানান, ক্যান্টিন খোলা থাকলে করোনার সংক্রমণ হতে পারে এমন আশঙ্কায় প্রথম দিকে ক্যান্টিন বন্ধ রাখা হয়। বিষয়টি সবাই মেনেও নিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পুরোদমে অফিসের কার্যক্রম শুরু হলেও ক্যান্টিন বন্ধ রাখা হয়। নিরাপদ সামাজিক দূরত্বের যে কথা বলা হয়েছিল তাও মানছে না কেউ। এখন শুধু ক্যান্টিন বন্ধ রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে। তারা জানান, ক্যান্টিন না খোলার কারণে ৯টায় অফিসে আসার পর সারাদিন উপোস থেকে কাজ করতে হয়। ক্যান্টিনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্যান্টিন না খোলার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, কোষাধ্যক্ষ ক্যান্টিন খোলার জন্য চিঠি দিলেও উপাচার্যের সম্মতি না থাকায় ক্যান্টিন খোলা সম্ভব হয়নি। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান জানান, ক্যান্টিনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এর জন্য একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটিই সব ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনিক ভবনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির পক্ষ থেকে উপাচার্য বরাবর আবেদনও করা হয়েছিল। এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সভায় আলোচনাও হয়েছিল। কিন্তু কিছু কর্মকর্তার বিরোধিতার মুখে ক্যান্টিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে কর্তৃপক্ষ। রেজিস্ট্রার ভবনের এ ক্যান্টিনের আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কথা বিবেচনা করে বেলা ৩টা পর্যন্ত অফিস শুরু করার সময়ে ক্যান্টিন খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু কী কারণে ক্যান্টিন খুলছে না তা জানেন না তিনি।