করোনার দ্বিতীয় ঢেউ

লন্ডন ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়াচ্ছে

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২১, ২২:১৫

বর্তমানে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। আইসিডিডিআর’বি, আইইডিসিআর ও বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (সাইন্স ল্যাবরেটরি) পরীক্ষায় বাংলাদেশেও করোনার লন্ডন ধরনের (ভ্যারিয়েন্ট) উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার প্রেক্ষিতে দেশে করোনা সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। আর রোগী বাড়ায় হাসপাতালে কোনো সিট খালি নেই। দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, করোনার রূপ (জিনোম সিকোয়েন্স) বদলেছে। এ কারণে দ্রুত আক্রান্ত বাড়ছে। এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

এদিকে নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে অবহেলা আর বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মধ্যেই দেশে এক দিনে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগী আর মৃত্যুর সংখ্যায় বড় উল্লম্ফন ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ২ হাজার ৮০৯ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে; মৃত্যু হয়েছে আরো ৩০ জনের। এক দিনে শনাক্ত রোগীর এই সংখ্যা গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর আগে গত বছরের ২০ আগস্ট এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেদিন মোট ২ হাজার ৮৬৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। আর সর্বশেষ এর চেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর এসেছিল আড়াই মাস আগে, গত ৭ জানুয়ারি। সেদিন ৩১ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ। আড়াই মাসের বেশি সময় পর দৈনিক শনাক্তের হার ১১ শতাংশের বেশি হলো। এর আগে ১০ ডিসেম্বর শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আরো ১ হাজার ৭৫৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ২৪ হাজার ১৫৯ জন হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২১৯টি ল্যাবে ২৫ হাজার ১১১ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ।

গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ আর নারী ৫ জন। ২৯ জন হাসপাতালে এবং ১ জন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ২০ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, ১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, ১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর এবং ১ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃতদের মধ্যে ২৪ জন ঢাকা বিভাগের, ৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ১ জন খুলনা বিভাগের এবং ১ জন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।