পানির দাম আবারও বাড়ছে ৫ শতাংশ

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২১, ২২:২৮

আবারও পানির দাম বাড়াচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। এবার ৫ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা ওয়াসার বোর্ড সভায় এটি অনুমোদন হতে পারে বলে জানা গেছে। গত ১৩ বছরে ওয়াসা ১৩ বার পানির দাম বাড়ায়! এবার মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে মোট ১৪ বার পানির দাম বাড়বে। বোর্ড সভায় অনুমোদন হলে এটি কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে।

ওয়াসা এবার ৫ শতাংশ পানির দাম বাড়ালে বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি হাজার লিটার পানিতে গুনতে হবে ১৫ টাকা ১৮ পয়সা; যা আগে ছিল ১৪ টাকা     ৪৬ পয়সা। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের প্রতি হাজার লিটারে পানির যে মূল্য ৪০ টাকা ছিল সেটি দিতে হবে ৪২ টাকা। একই হারে বাড়বে স্যুয়ারেজের বিল। ওয়াসা বলছে, মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করতে প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে পানির দাম ও স্যুয়ারেজের ব্যবস্থাপনার মূল্য বাড়াতে পারে সংস্থাটি। যার ভিত্তিতেই ঢাকা ওয়াসা এবারও স্যুয়ারেজ ও পানির বিল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

এর আগে গত বছর আবাসিক সংযোগে প্রতি ১ হাজার লিটার পানির মূল্য ছিল ১১ টাকা ৫৭ পয়সা। সেটিকে বাড়িয়ে ২০ টাকা ও বাণিজ্যিক ও শিল্পে প্রতি হাজার লিটার পানির মূল্য ৩৭ টাকা চার পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করার উদ্যোগ নিয়েছিল ঢাকা ওয়াসা। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তা অনুমোদন করেনি। মন্ত্রণালয় আবাসিকে ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা ও বাণিজ্যিক ও শিল্পে ৪০ টাকা প্রতি হাজার লিটার পানির দাম নির্ধারণের পক্ষে মত দেয়। গত বছরের ১ মার্চ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে ওয়াসা। একই হারে বাড়ানো হয় স্যুয়ারেজের বিল।

এ বিষয়ে ওয়াসার চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ইত্তেফাককে বলেন, ওয়াসা প্রতি বছরই উত্পাদন খরচের সঙ্গে সমন্বয় করে পানির দাম বাড়ায়। এবারও সেটি হচ্ছে। আর যে পরিমাণ দাম বাড়ানো হচ্ছে এটি খুবই সামান্য।

এদিকে ঢাকা ওয়াসার পানির মান নিয়ে মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। করোনার ভেতর এমন দাম বাড়ানো মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা বলছেন সেবা গ্রহীতারা। তাদের দাবি, পানির সংকট ও মানোন্নয়ন না করেই প্রতি বছর ওয়াসা পানির দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। মানুষ কোনোরকম পানি পেলেও সেটি বেশির ভাগ এলাকায়ই খাওয়ার অযোগ্য। রাজধানীর পুরান ঢাকা এলাকার আব্দুল হাকিম বলেন, পানির মান এতই খারাপ থাকে মাঝেমধ্যে পানি মুখেও দেওয়া যায় না। পানি থেকে গন্ধ আসে। পানি ফুটানো ছাড়া কোনোভাবেই পান করা যায় না। অথচ প্রতি বছরই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পানির দাম। পানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে আজিমপুরের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, এই মুহূর্তে মানুষের হাতে নেই টাকা, অথচ পানির জন্য গুনতে হবে বাড়তি অর্থ। এটি আসলেই অমানবিক।