মানুষের জন্য দলমত নির্বিশেষে সবার দাঁড়াতে হবে :রাষ্ট্রপতি

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২১, ০১:০০

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রাজনীতিতে ‘নতুন অধ্যায়’ আনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। নেপালের রাষ্ট্রপতি  বিদ্যা দেবী ভান্ডারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, ‘আপনি বিশ্বের দারুণ এক অনুপ্রেরণাদায়ী নেতা। এদিকে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের এই শুভ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনে গতকাল সঙ্গী হন নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি। সোমবার ‘বাংলার মাটি আমার মাটি’ থিমে ষষ্ঠ দিনের আয়োজনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন নেপালের প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিদ্যা দেবী ভান্ডারি অনুষ্ঠানস্থলে এলে তাকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা। শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর পাঠ করা হয় ধর্মগ্রন্থ থেকে। ১০ দিনের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ‘মুজিব চিরন্তন’ এর ওপর নির্মিত অ্যানিমেশন ভিডিওর পর দেখানো হয় বিমান বাহিনীর ফ্লাই পাস্টের ভিডিও।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার ও রাজনৈতিক দল যখন সততা, আন্তরিকতা দিয়ে জনস্বার্থে কাজ করে তখন জাতির উন্নতি ও কল্যাণ নিশ্চিত হয়। সাধারণ হতদরিদ্র মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে দলমতনির্বিশেষে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারলে দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। মুজিববর্ষে এটাই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন।

সভাপতির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সবসময়ই শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন। মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তিনি ছিলেন সোচ্চার। তিনি চেয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। সবার অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিত্সা-শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকেরা সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের অগ্রগতি থেমে যায়। কিন্তু বিগত ১২ বছরে আমরা জাতির পিতার দেখানো পথ ধরেই হাঁটছি।  আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র নেপালও একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। আমি নেপালের সরকার এবং জনগণকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে ২০ মার্চ ওআইসি মহাসচিব ইউসুফ আল ওথাইমিন এবং ২১ মার্চ জর্ডানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র ও প্রবাসীমন্ত্রী আয়মেন সাফাদি শুভেচ্ছা বাণী পাঠিয়ে আমাদের উদ্যাপনকে মহিমান্বিত করছেন। আমি তাদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এর আগে চীনের রাষ্ট্রপতি, কানাডা, জাপান ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সবার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।

এদিকে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, ‘আপনি বিশ্বের দারুণ এক অনুপ্রেরণাদায়ী নেতা’। গতকাল রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাত্কালে তিনি বলেন, আমি আপনার অনুরাগী।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাক্ষাত্ শেষে সংবাদকর্মীদের ব্রিফ করেন।

নেপালের রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে বিদ্যা দেবী ভান্ডারি বলেন, জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ রোল মডেল হতে পারে। সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা অর্থবহ সহযোগিতা চাই। নেপালকে বাংলাদেশের বন্দরসুবিধা এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করার প্রস্তাবের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। নেপালের রাষ্ট্রপতি নেপালি ভাষায় অনূদিত ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই দুটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।

সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস ও পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন নেপালের রাষ্ট্রপতির কন্যা ঊষা কিয়ান ভান্ডারি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গ্যেওয়ালি ও নেপাল একাডেমির চ্যান্সেলর গঙ্গা প্রায়াদ উপ্রেতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে বিদ্যা দেবী ভান্ডারির হাতে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে স্মারক উপহার তুলে দেন। এর আগে গতকাল সকালে নেপালের রাষ্ট্রপতি দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকা এসে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান নেপালের রাষ্ট্রপতি।

ঢাকা-কাঠমান্ডু চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

এদিকে বাসস জানায়, পর্যটন, স্যানিটেশন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও রেলওয়ে সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা ও কাঠমান্ডু গতকাল চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে বঙ্গভবনে নেপালের রাষ্ট্রপতি পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তার সহধর্মিণী রাশিদা খানম বিদ্যা দেবী ভান্ডারিকে অভ্যর্থনা জানান। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় ভোজসভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নেপালের রাষ্ট্রপতির সম্মানে রাষ্ট্রীয় ডাইনিং হলে এই ভোজসভার আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাশিদা খানম, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বেশ কয়েক জন মন্ত্রী, বেসামরিক ও সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আরো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ভোজসভায় উপস্থিত ছিলেন।