শরীয়তপুর জেলা জজ আদালতে সাবেক পিপি (সরকারি কৌঁসুলি) ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও তার ভাই যুবলীগের নেতা মুনীর মুন্সী হত্যাকাণ্ডের রায় বাতিলের দাবিতে গতকাল সোমবার শরীয়তপুর শহরে অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে।
রায় ঘোষণায় সংক্ষুব্ধ নিহত হাবিবুর রহমানের ছেলে শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান জন ও তার সমর্থকদের আহ্বানে হরতাল পালিত হয়।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শওকত হোসাইন গত রবিবার এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে ছয় ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড, চার ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন ও তিন ব্যক্তিকে দুই বছর কারাদণ্ড প্রদান করেন।
হরতাল চলাকালে যানবাহন, দোকানপাট ও অফিস-আদালত বন্ধ ছিল। এ সময় হরতালের সমর্থনে সর্বস্তরের মানুষের একটি বিরাট মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে হাবিবুর রহমানের ছেলে শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান জন বলেন, ‘রায়ে আমরা খুশি হতে পারিনি। যারা আমার বাবা ও চাচাকে হত্যা করেছে, তাদের অনেকেই খালাস পেয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
২০০১ সালে অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান ও তার ছোট ভাই মুনীর মুন্সী শহরে তাদের বাসভবনে শরীয়তপুর-১ আসনের স্থগিত আটটি কেন্দ্রের নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে একটি সভা করছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাদের বাসায় হামলা করে হাবিবুর রহমান ও তার ভাই মুনীর মুন্সীকে গুলি করে ঘটনাস্থলে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হাবিবুর রহমানের স্ত্রী জিন্নাত হাবিব ৫৩ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০০৩ সালে মামলার প্রধান আসামি শরীয়তপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গকে (পরে এমপি) বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বাদী আদালতে এ ব্যাপারে নারাজি দিলেও আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিন পর এ মামলায় ৫৩ আসামির মধ্যে ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও দণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকিদের আদালত বেকসুর খালাস দেয়।
এদিকে শহরে উত্তেজনাকর পরিস্থিত বিরাজ করছে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
