ইয়েমেনে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদেরকে যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমঝোতা চুক্তিসহ নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। সোমবার (২২ মার্চ) এক ঘোষণায় এ প্রস্তাব দিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।
তিনি বলেন, যদি হুথি বিদ্রোহীরা উদ্যোগের শর্তগুলো মানতে সম্মত হয়, তাহলে সৌদি আরবও জাতিসংঘ-পর্যবেক্ষণাধীন দেশটিতে (ইয়েমেন) যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে তীব্রভাবে বিমান হামলা চালাচ্ছে। তারা রাজধানী সানা ও লোহিত সাগরের উপকূলে একটি শস্য বন্দরসহ আরো কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এর মাঝেই এমন ঘোষণা আসলো।
গত কয়েকমাস ধরে হুথি বিদ্রোহীরাও সৌদি আরবের ওপর হামলা চালাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি এবং প্রধান তেল ক্ষেত্রগুলোকে টার্গেট করে বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে এসব হামলা চালায় ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি।
সৌদি আরবের এই উদ্যোগটি ইয়েমেনে যুদ্ধরত দলগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার সর্বশেষ প্রয়াস। সম্প্রতি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া দেয়নি হুথি বিদ্রোহীরা।
হুথির মালিকানাধীন বার্তা সংস্থা আল মাসিরাহর সঙ্গে কথা বলার সময় গোষ্ঠীটির এক কর্মকর্তা এই উদ্যোগটিকে ‘গুরুতর বা নতুন নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে যুদ্ধে লেগে আছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। তারা রাজধানী সানা ও অন্যতম প্রধান শহর হোদেইদহসহ উত্তর ইয়েমেন দখল করে আছে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণ করার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষণা করেছিলেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের আক্রমণাত্বক অভিযানের পক্ষে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ তারা সৌদিকে আর সমর্থন দেবে না।
ইত্তেফাক/টিএ
