অবশেষে যৌন হয়রানির মামলা করলেন রামেক হাসপাতালের সেই নার্স

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২১, ২২:০০

রাজশাহীতে কর্মস্থলে যৌন নিপীড়নের প্রতিকার চেয়ে উলটো বদলির আদেশ হওয়ার পর অবশেষে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক নার্স। সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকের বিরুদ্ধে গত সোমবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন তিনি।

মামলার একমাত্র আসামি ডা. মামুন-অর-রহমান। তিনি চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিত্সক। অবশ্য মামুন ছুটি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ডিপ্লোমা করছেন। ঐকোর্স সম্পন্ন করতে এসেছিলেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। সেখানেই তিনি নার্সকে যৌন হয়রানি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নার্স গত ১৮ জানুয়ারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানে দায়িত্বরত চিকিত্সক                 মামুন-অর-রহমান তাকে যৌন হয়রানি করেন। পরদিনও একই ঘটনা ঘটান তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০ জানুয়ারি চিকিত্সক মামুনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ১০ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল পরিচালকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

ঐ নার্স অভিযেগ করেন, যৌন হয়রানির অভিযোগে চিকিত্সক মামুনের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উলটো তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে ঐ চিকিত্সককে ক্ষমা করে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। প্রতিবেদনের একটি কপি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন রামেক হাসপাতালের পরিচালক। ঐ অধিদপ্তরও আলাদা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সেই তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ইতিমধ্যে গত ১৮ মার্চ ভুক্তভোগী ওই নার্সকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে বদলি করা হয়। বদলি আদেশে স্বাক্ষর করেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হাই ও মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার। ২৪ মার্চের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। তা ছাড়া তাত্ক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য হওয়ার কথাও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পরদিন বদলির আদেশ বাতিল করা হয়।

নার্সের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন দাখিল করেন আইনজীবী শারমীন কানিজ। তিনি বলেন, আদালত মামলার আবেদনটি গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দিয়েছেন বিচারক। আগামী ২০ এপ্রিল আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।